ঢাকা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমানউল্লাহ আমান ও তাঁর স্ত্রী সাবেরা আমানের নামে প্রায় ৬০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে সাবেরা আমানের হাতে নগদ রয়েছে ৫ কোটি ২৯ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৪ টাকা। এ ছাড়া দম্পতির নামে রয়েছে একাধিক বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, গাড়ি ও একটি এক্সেভেটর।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে বিধি অনুযায়ী আয়-ব্যয় ও সম্পদের বিবরণী দাখিল করতে হয়।
ঢাকা-২ আসনটি কেরানীগঞ্জ উপজেলার কালিন্দী, শাক্তা, তারানগর, বাস্তা, রোহিতপুর, কলাতিয়া ও হযরতপুর এবং সাভার উপজেলার ভাকুর্তা, আমিনবাজার ও তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন কেরানীগঞ্জের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আমানউল্লাহ আমান।
৬৩ বছর বয়সী আমানউল্লাহ আমান হলফনামায় নিজের পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ‘ব্যবসা’। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসএস (স্নাতকোত্তর)। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর নামে ২৬টি মামলা রয়েছে। এর আগে তিনি ১৫২টি মামলার আসামি ছিলেন। যার অধিকাংশ থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আমানউল্লাহ আমানের বার্ষিক আয় ৫১ লাখ ৭১ হাজার ৮৮ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি, বাণিজ্যিক স্থান, অ্যাপার্টমেন্ট বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি থেকে ভাড়া বাবদ ৪৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, কৃষিখাত থেকে ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা এবং শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানত থেকে ১ হাজার ৮৮ টাকা।
আমানউল্লাহ আমান অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন ১ কোটি ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯০ টাকার (অর্জনকালীন মূল্য)। এসব সম্পদের বর্তমান মূল্য ১ কোটি ৯২ লাখ ৯৩ হাজার ৯০ টাকা। এর মধ্যে নগদ আছে ৩৩ লাখ ৭২৯ টাকা (স্থিতিপত্র থেকে ১৪ লাখ ও ব্যবসা বহির্ভূত হাতে নগদ ১৯ লাখ ২৮৯ টাকা), নয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা আছে ৫৬ লাখ ৬১ হাজার ৪৮৫ টাকা। আমানউল্লাহর বন্ড, ঋণপত্র ও বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার আছে ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকার, আসবাব রয়েছে ৩ লাখ টাকার, ইলেকট্রনিকস পণ্য রয়েছে ৫ লাখ টাকার, স্বর্ণ রয়েছে ৫০ তোলা (মূল্য দুই লাখ টাকা)।
আমানউল্লাহর স্ত্রী সাবেরা আমানের অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন ৬ কোটি ২২ লাখ ১৭ হাজার ১৬১ টাকার (অর্জনকালীন মূল্য)। এসব সম্পদের বর্তমান মূল্য ৬ কোটি ৬৭ লাখ ১৭ হাজার ১৬১ টাকা। এর মধ্যে নগদ আছে ৫ কোটি ২৯ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৪ টাকা, পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা আছে ৫৬ হাজার ৪০৭ টাকা। সাবেরা আমানের আসবাব রয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার, ইলেকট্রনিকস পণ্য রয়েছে ৪ লাখ টাকার, স্বর্ণ রয়েছে ৩০ তোলা।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আমানউল্লাহর ২৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি রয়েছে (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৪৭৬৫), আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে দুটি (৩০ হাজার টাকা দামের ১টি ১২ বোরের শর্টগান ও ৫০ হাজার টাকা দামের একটি ৩২ বোরের রিভলবার)। অগ্রিম বাড়ি ভাড়া বাবদ তাঁর দায় আছে ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তাঁর সরকারি কোন পাওনাদি নেই। আমানের স্ত্রী সাবেরা আমানের ৪১ লাখ টাকা মূল্যের একটি (ঢাকা মেট্রো-গ-৩৩-২০৯৭) ও ৪২ লাখ টাকা মূল্যের একটি এক্সেভেটর রয়েছে। তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে দুটি (৮০ হাজার টাকা দামের ১টি শর্টগান ও ১ লাখ টাকা দামের একটি পিস্তল)।
হলফনামা অনুযায়ী, আমানউল্লাহ আমানের ৬ কোটি ২১ লাখ ৯২ হাজার ১২২ টাকার (অর্জনকালীন মূল্য) স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের বর্তমান মূল্য ৩৪ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ৬১৫ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে কৃষি জমির পরিমাণ ১ হাজার ৯৫৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ ও অকৃষি জমির পরিমাণ ০৩১০ অযুতাংশ। এ ছাড়া গুলশানে তাঁর চিলেকোঠাসহ ছয়তলা একটি ভবন রয়েছে। যার মূল্য ১ কোটি ৭৮ লাখ ৩২ হাজার ৬৫৮ টাকা। একই সাথে কেরানীগঞ্জের হযরতপুরে তাঁর দুটি বহুতল ভবন রয়েছে। এর মধ্যে একটি দ্বিতীয় তলা ভবনের মূল্য ৫৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা ও অপর তৃতীয় তলা ভবনের মূল্য ১ কোটি ৫ লাখ ৯০ হাজার ৩৯৭ টাকা।
আমানের স্ত্রী সাবেরা আমানের ৫ কোটি ১৮ লাখ ২৪ হাজার ২২৫ টাকার (অর্জনকালীন মূল্য) স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের বর্তমান মূল্য ১০ কোটি ৫৪ লাখ ৪১ হাজার ৪৫০ টাকা। এর মধ্যে কৃষি জমির পরিমাণ ৫৮৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ ছাড়া মিরপুরের মনিপুরে ১০৫০ বর্গফুটের তাঁর একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। যা তিনি হেবা সূত্রে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। ফ্ল্যাটটির হেবা মূল্য ২৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
সর্বশেষ জমা দেওয়া আয়কর বিবরণী অনুযায়ী, ৫১ লাখ ৭১ হাজার ৮৮ টাকা আয়ের বিপরীতে আমানউল্লাহ আমান ১২ লাখ ২৭ হাজার ৯৫৯ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। একই সঙ্গে হলফনামায় তিনি মোট ৭ কোটি ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার ২১২ টাকার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেছেন।
আমানউল্লাহ আমান ১৯৯১, ১৯৯৬, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে চারবার কেরানীগঞ্জ (তৎকালীন ঢাকা-৩) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। হলফনামায় তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতিও তুলে ধরেছেন। তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্য গ্যাস সরবাহের অর্জন প্রায় ৭০ ভাগ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অর্জন প্রায় ৮০ ভাগ, টেলিফোন সংযোগের অর্জন প্রায় ৫০ ভাগ ও গ্রামে ব্রীজ, কালভার্টের অজর্ন প্রায় ৮০ ভাগ উল্লেখ করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) ঢাকা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সভায় আমানউল্লাহ আমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
আরোও পড়ুনঃ ঢাকা-১৭ আসনে বেস্ট প্রার্থী হচ্ছেন তারেক রহমান: পার্থ

