ঢাকার কেরানীগঞ্জে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করেও স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে না নেওয়া এবং পরবর্তীতে যৌতুক না দেওয়ায় তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিক্রমপুর আদর্শ কলেজের সহকারী শিক্ষক উলফৎ ওমর পাপ্পুর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মিতু আক্তার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা মিতু আক্তারের সঙ্গে একই কলেজে পড়াশোনার সুবাদে উলফৎ ওমর পাপ্পুর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর তারা বিয়ে করেন।
বিয়ের পর প্রায় ছয় মাস পার হলেও তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বামীর নিজ বাড়ি কেরানীগঞ্জের কলাকান্দি-আব্দুল্লাহপুর এলাকায় নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে পাপ্পু বিভিন্ন সময় তাকে বাড়িতে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২১ জুন উলফৎ ওমর পাপ্পু মিতু আক্তারকে তালাকের কাগজ পাঠান। বিষয়টি জানতে মিতু পাপ্পুর কলাকান্দি-আব্দুল্লাহপুরের বাড়িতে গেলে সেখানে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
মিতু আক্তারের দাবি, এ সময় পাপ্পু ছাড়াও তার মা নাজমা বেগম, বাবা ওমর আলী এবং ছোট ভাই ওয়ালিদ ওমর বাবু তাকে মারধর করেন।
ঘটনার পর মিতু আক্তার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে আদালতে উলফৎ ওমর পাপ্পুর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী মিতু আক্তারের দাবি, প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করলেও তাকে স্বামীর বাড়িতে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্নভাবে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হয়েছেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন মিতু।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উলফৎ ওমর পাপ্পু। তার দাবি, মিতু আক্তার তাকে জোর করে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করতেন। আদালতে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিও মিথ্যা বলে দাবি করেন পাপ্পু।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় দেওয়া অভিযোগ ও আদালতে দায়ের করা মামলার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী মিতু তার তার সাথে হওয়া প্রতারণার বিষয়ে ন্যায় বিচার দাবী করেন।

