আন্তর্জাতিক স্কাউট যোগাযোগ, নেতৃত্বের বিকাশ, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদারের লক্ষ্যে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ক্যাম্প ফর জোটা-জোটি ২০২৬’। থার্টিন হুসার্স ওপেন রোভার স্কাউট গ্রুপের আয়োজনে ১৫ থেকে ২০ অক্টোবর তেঁতুলিয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১০৮ জন স্কাউট অংশ নেন।
ক্যাম্পের প্রথম দিনে অংশগ্রহণকারীরা তাঁবু স্থাপন ও শিবির সাজানোর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেন। পরে গ্রুপের সিএসটি অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন। এতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দলীয় চেতনা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও উৎসাহ তৈরি হয়।
দ্বিতীয় দিনে বিপিপিটি, ক্যাম্প এলাকা ও প্যাট্রল পরিদর্শনের পাশাপাশি পতাকা কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন জোটা-জোটি কার্যক্রমে অংশ নিয়ে স্কাউটরা অ্যামেচার রেডিও ও ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের স্কাউটদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ক্যাম্পের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে S21HRG বিশেষ অ্যামেচার রেডিও কল সাইন সংগ্রহ করা হয়।
এ ছাড়া অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তসংলগ্ন বাংলাবান্ধা এলাকা পরিদর্শন ও কুচকাওয়াজে অংশ নেন। রাতে অনুষ্ঠিত ভিজিল কার্যক্রমের মাধ্যমে স্কাউটদের দায়িত্ববোধ, সতর্কতা, শৃঙ্খলা ও দলগত কাজের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।
তৃতীয় দিনে বিভিন্ন সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তা ও দলগত দক্ষতা বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এদিন সহচর রোভারদের দীক্ষা গ্রহণ এবং রাতে ক্যাম্পফায়ার ও বিশেষ ভোজের আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
ক্যাম্পের শেষ দিনে তেঁতুলিয়ার একটি মনোরম ভিউপয়েন্ট থেকে বাংলাদেশের দিক দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করেন অংশগ্রহণকারীরা। পরে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটে আমন্ত্রিত হয়ে ট্রেজার হান্টে অংশ নেন তারা। এর মাধ্যমে সমস্যা সমাধান, সহযোগিতা ও দলগত কাজের দক্ষতা চর্চার সুযোগ পান স্কাউটরা।
ক্যাম্পের সব কার্যক্রম শেষে অংশগ্রহণকারীরা শিবির গুছিয়ে রেলস্টেশনের উদ্দেশে রওনা হন এবং ঢাকার পথে যাত্রা শুরু করেন।
আয়োজকদের মতে, ‘ক্যাম্প ফর জোটা-জোটি ২০২৬’ স্কাউটদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বিকাশের পাশাপাশি তেঁতুলিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের একটি স্মরণীয় আয়োজন হিসেবে পরিণত হয়েছে।

