মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর এবার রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোকে হুমকি দিলেন নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) মহাসচিব মার্ক রুট। স্থানীয় সময় বুধবার তিনি এ হুমকি দেন বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।
ন্যাটো মহাসচিব বলেছেন, ব্রাজিল, চীন এবং ভারতের মতো দেশগুলো যদি রাশিয়ার সাথে বাণিজ্য চালিয়ে যায় তবে তারা দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারে। এতে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
এবার ভারতসহ অন্য কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করে ট্রাম্পের হুমকির পুনরাবৃত্তি করে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট বলেন, ‘এই তিনটি দেশের প্রতি আমার আগ্রহ। বিশেষ করে যদি আপনি এখন বেইজিংয়ে থাকেন, দিল্লিতে থাকেন অথবা আপনি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হন, তাহলে আপনি এটি একবার দেখে নিতে পারেন। কারণ এটি আপনার ওপর খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।

মার্ক রুট বলেন, ‘তাই দয়া করে ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করুন এবং তাঁকে বলুন যে, শান্তি আলোচনার বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে কাজ করতে হবে। অন্যথায় এটি ব্রাজিল, ভারত এবং চীনের উপর ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলবে।’
প্রতিবেদন বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ ঠেকাতে এর আগে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে শুল্ককে হাতিয়ার বানাতে চান তিনি। এতে ভুগতে হতে পারে ভারতকে। এর আগেও বেশ কয়েকবার রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের জন্য ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে ভারত।
সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, জাপানসহ ২০টিরও বেশি দেশের ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপ করে আমেরিকা। তবে এই সময়ে ভারতকে কোনো শুল্ক চিঠি পাঠানো হয়্নি। ট্রাম্প যেসব দেশের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন, তাদের ১ আগস্ট থেকে নতুন হারের মুখোমুখি হতে হবে।
এদিকে শুল্ক ইস্যু নিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, মস্কো নতুন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত। রাশিয়া এবং রাশিয়ার বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর আমেরিকার এই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারিকে পাত্তা দিতে নারাজ তিনি।
সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে (এসসিও) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ল্যাভরভ বলেন, রাশিয়া এরই মধ্যে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছে। নতুন যেকোনো বিধিনিষেধ মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।
ইউক্রেনের জন্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা চলছে কি না জানতে চাইলে মার্ক রুট বলেন, ‘এটি প্রতিরক্ষামূলক এবং আক্রমণাত্মক উভয়ই। আমরা প্রেসিডেন্টের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করিনি। বিষয়টি এখন পেন্টাগন, ইউরোপের সর্বোচ্চ মিত্রবাহিনীর কমান্ডার এবং ইউক্রেনীয়দের অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত হচ্ছে।’
আরোও পড়ুনঃ আগামী সপ্তাহের মধ্যে’ গাজা চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবেঃ ট্রাম্প

