ভাঙারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতেই পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করা হয় ব্যবসায়ীকে, নিহত সোহাগ বিএনপির একজন কর্মী ছিলেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যবসায়ীকে যখন নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখনও আশেপাশে অসংখ্য মানুষের আনাগোনা ছিল। তবে কেউই তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার সাহস দেখাননি। এ সময় তাদেরককে স্লোগানও দিতে দেখা যায়।
গত দু্ই দিন কেরানীগঞ্জের আলো সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে যাদের নাম পায় তারা সবাই কোন না কোন ভাবে বিএনপির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগও ঢাকা দক্ষিণের ৩০ নং ওয়ার্ডের যুবদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।
সোহাগের গ্রামের বাড়ি বরগুনা। তবে সে দীর্ঘ দিন ধরে জিনজিরা নামাবাড়ি এলাকায় থাকেন। গত ১৫ বছর ধরে সাদা তারের ব্যবসা করতেন সোহাগ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোহাগের এক ঘনিষ্ঠ ব্যাক্তি কেরানীগঞ্জের আলো কে জানায়, দীর্ঘ দিন ধরেই সোহাগ এই এলাকার ভাঙারি ব্যবসা করতেন এবং ৫ই আগষ্ট পরবর্তী সময় মঈন, টিটু, অপু দাস ওই এলাকার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা সোহাগের ব্যবসাও দখল নিতে চায়।
তবে মঈন টিটু ও অপু দাসের নাম প্রকাশ্যে এলেও এর পিছনে মূল হোতা ছিলেন আনোয়ারুল হক রনি ওরফে ভাইয়া রনিসহ আরো দুই একজন।
নিহত সোহাগের পরিবারও বলছে তারা কোতওয়ালী থানায় যাবার পরে প্রথমে যে এজাহারটা পুলিশ তাদের দেখিয়েছিলো তাতে আনোয়ারুল হক রনির নাম ছিলো ১৬ নাম্বারে। সেই এজেহারের ছবিও তারা তুলে রেখেছে। কিন্তু পরবর্তীতে পুলিশ রহস্যজনক ভাবে এজাহার থেকে রনির নাম বাদ দিয়ে দেয়। কি কারনে পুলিশ বাদ দিলো তাদের নাম সেই কারন এখনো জানা যায় নি।
মিটফোর্ড হাসপাতালের সাথেই চঞ্চলের বাসার নিচে মইনের অফিস ছিলো। সেই সুত্রে তাদের মধ্যে সখ্যতা বেশি ছিলো।
হত্যায় জড়িত যারা:
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের সঙ্গে সিসিটিভির ফুটেজ ও পথচারীদের ধারণ করা ভিডিও চিত্র মিলিয়ে দেখা গেছে মঈন, টিটু ও অপু দাস হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়।।
এদের মধ্যে মঈন ৩০ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং চকবাজার থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
পদ-পদবী না থাকলেও টিটু ৩১ নং ওয়ার্ড যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত। তিনি চকবাজার থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবা করীম লাকি ও দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের বিশ্বস্ত সহযোগী। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। টিটুর আপন বড় ভাই ১৫ বছর আগে নয়াবাজার এলাকায় প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন।
হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া অপু দাস, মঈনের রাজনৈতিক ‘ছোট ভাই’ হিসেবে পরিচিত। তিনি ৩০ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান চকবাজার থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন।
যেভাবে হত্যাকাণ্ড
আশেপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবারে মঈন, টিটু, অপুসহ বেশ কিছু লোক সোহাগের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গিয়ে তালা মেরে দিয়ে আসে। এ সময় অন্যদের তারা বলে আসে, এই এলাকায় তারের ব্যবসা শুধু আমরাই করবো। পরদিন বিকালে সোহাগ তার গোডাউনে মইনদের মেরে যাওয়া তালা ভেঙে প্রবেশ করলে খবর পেয়ে ৩০/৪০ জনের একটি দল সোহাগকে ধাওয়া দেয়। পরে সোহাগকে মারতে মারতে তারা মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নং গেইটে নিয়ে আসে।
প্রথমে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে সোহাগ মাটিতে পড়ে যায়। এরপর চলে পাশবিক অত্যাচার। এসময় তার পরনের কাপড়ও ছিঁড়ে ফেলে তারা। সোহাগকে উলঙ্গ করে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য পাথর দিয়ে মাথা থেতলে দেয় তারা। মারা যাওয়ার পর সোহাগের শরীরের উপর লাফাতে দেখা যায় অপু দাসকে।
অভিযানে এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানায় পুলিশ।
আরোও পড়ুনঃ হাসিনাকন্যা পুতুলকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

