১১ দিন নৈরাজ্যের আশঙ্কা এসবির, সারাদেশে বিশেষ সতর্কতা জারি

১১ দিন নৈরাজ্যের আশঙ্কা এসবির, সারাদেশে বিশেষ সতর্কতা জারি

জাতীয়

টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে প্রায় এক বছর হতে চলল, কিন্তু এখনো প্রকাশ্যে রাজনৈতিক ময়দানে ফিরতে পারেনি আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকার দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও দেশ-বিদেশে ছদ্মবেশে তৎপর রয়েছে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। তারা গোপনে একত্র হয়ে সহিংসতা বা হামলার পরিকল্পনা করতে পারে—এমন আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারা দেশে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।

এসবির রাজনৈতিক উইংয়ের পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে এই সময়টিকে ‘বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপমহাপরিদর্শক স্বাক্ষরিত ওই চিঠি সোমবার পাঠানো হয়েছে ডিএমপি কমিশনার, সিটি এসবি, বিভাগীয় উপ-পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম ও খুলনার স্পেশাল পুলিশ সুপারসহ দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারের কাছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ১ জুলাই থেকে ‘ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে সরকারবিরোধী দল ও বিভিন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী সামাজিক সংগঠন ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে। এই প্রেক্ষাপটে ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়কে ঘিরে বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড, সহিংসতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এসবির আশঙ্কা, এই সময়ে বিতর্কিত রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও সংগঠনগুলো অনলাইন ও অফলাইনে প্রচারণা চালিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য, গুজব ও উসকানিমূলক পোস্টের মাধ্যমে অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে।

চিঠিতে সব ইউনিটকে নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সন্দেহভাজন ব্যক্তি, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসসহ সব যানবাহনে তল্লাশি, সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দর এলাকায় বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ অভিযান চলবে ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত।

চিঠিতে মোবাইল পেট্রোল বৃদ্ধি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা শামিল, সাইবার গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ভার্চুয়াল প্রচারণা পর্যবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধারণা, মাঠপর্যায়ে না থাকলেও আওয়ামী লীগের কিছু যুব ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা ‘ভার্চুয়াল স্কোয়াড’ তৈরি করে টেলিগ্রাম, ইউটিউব ও ফেসবুকের মাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচার চালাচ্ছেন। এদের ভূমিকা নজরদারিতে আনা হয়েছে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তারা পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিক অরাজকতা তৈরির ষড়যন্ত্র করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা দেশে-বিদেশে বসে অশান্তির পরিকল্পনায় লিপ্ত, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশের এই সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও নজরদারি পর্বে আগামী ১১ দিন গোটা দেশজুড়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কঠোর নজরদারিতে থাকছে বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

আরোও পড়ুনঃ ঢাকা থেকে জঙ্গিবিমান ঘাঁটি সরানোর পরিকল্পনা নেইঃ বিমানবাহিনী