আদালত প্রাঙ্গণে অশোভনমূলক আচরণ ও হেনস্তার শিকার সাংবাদিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ তিনি বলেন, পরীমনির বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
হেনস্তার শিকার সমকালের সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রাজু এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘লিফটে ওঠার সময় পরীমনি কোনো কারণ ছাড়াই আমার কাছ থেকে আমার ফোনটা নিয়ে যান। পরে আমি ফোনটা ওনার কাছ থেকে নিয়ে নেওয়ার পর তখন আমার মোবাইল ট্রাইপড তিনি ভেঙে ফেলেন।’
তিনি বলেন, পরে যখন নিচে আমাকে দেখেন, তখন আমার দিকে তেড়ে আসেন পরীমনি। আমার গায়ে হাত তোলেন এবং গালাগালি করতে থাকেন।
পরীমনির দ্বারা হেনস্তা হওয়ার বিষয়ে সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রাজু বলেন, আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কথা ভাবছি। অফিস অনুমতি দিলেই পরীমনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করব।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে ‘ব্যাডটাচ’ বা অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগে তুলে পরীমনি সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রাজুর সঙ্গে অশোভনমূলক আচরণ করেন, তুই সম্বোধন করে গালাগাল করেন।
গাড়িতে ওঠার সময়ও সাংবাদিকদের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় এ চিত্রনায়িকার। এ সময় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ও সহকারীদেরও চড়াও হতে দেখা যায়।
ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পরীমনির নিরাপত্তাকর্মী ও সহকারীরা তাকে ঘিরে আদালত থেকে গাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরে জামিনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চান। কেউ কেউ দূর থেকে প্রশ্ন করেন, ‘জামিনের পরে আপনার প্রতিক্রিয়া কী, আমাদের মন্তব্যটা বলেন।’
প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে চলা ওই ঘটনার একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পরীমনি। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘কত বড় সাহস, গায়ের মধ্যে হাত দেয়, সাহস দেখায়।’
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত কয়েকজন ওই ব্যক্তিকে সরিয়ে দেন। পরে ক্ষোভ প্রকাশ করতে করতে দ্রুত গাড়িতে উঠে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন পরীমনি।
এর আগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে রাখা একটি সাদা ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে নামেন পরীমনি। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

