প্রিয়জন’কে স্যরি বলার ৭ টি উপায়

বিনোদন সারাদেশ

সম্পর্ক মানেই ভালোবাসা, খুনসুটি, অভিমান আর মাঝেমধ্যে একটু ঝগড়া। কখনো রাগের মাথায় এমন কিছু কথা বলে ফেলি, যা পরে নিজের কাছেই খারাপ লাগে। অথচ ততক্ষণে প্রিয় মানুষটির মুখ ভার, মেসেজের রিপ্লাই বন্ধ, ফোন ধরলেও উত্তর এক শব্দে! এমন পরিস্থিতিতে নিজের ইগো ধরে বসে থাকলে সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়তে পারে।

তাই সময় থাকতে নিজের ভুল স্বীকার করে বলে ফেলুন ‘স্যরি’। তবে শুধু স্যরি বললেই হবে না, জানতে হবে সেটি বলার সঠিক কৌশলও। কারণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি আন্তরিক ক্ষমা যেমন বরফ গলাতে পারে, তেমনি ভুল সময়ে বলা একটি ‘স্যরি’ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, প্রিয়জনের অভিমান ভাঙাতে স্যরি বলার ৭টি কার্যকর উপায়।

১. অজুহাত না দিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করুন

‘আমি ভুল করেছি, কিন্তু তুমিও তো কম করনি’—এই ধরনের ক্ষমা চাওয়া থেকে দূরে থাকুন। কারণ এটি ক্ষমা চাওয়ার চেয়ে নতুন করে ঝগড়া শুরু করার আমন্ত্রণ বেশি। বরং সরাসরি বলুন, ‘আমি বুঝতে পেরেছি, আমার কথায় তুমি কষ্ট পেয়েছ। সত্যিই দুঃখিত।’ মনে রাখবেন, স্যরি বলার সঙ্গে যদি ‘কিন্তু’ জুড়ে দেন, তাহলে সেই স্যরির কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যায়।

২. সুন্দর একটি মেসেজ পাঠান

সামনাসামনি কথা বলতে সাহস হচ্ছে না? তাহলে একটি আন্তরিক মেসেজ পাঠাতে পারেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন, ভুল স্বীকার করুন এবং সম্পর্কটির গুরুত্ব বোঝান। তবে একের পর এক ২৫টি মেসেজ পাঠিয়ে ইনবক্স ভরিয়ে ফেলবেন না। এতে অভিমান কমার বদলে বিরক্তি বাড়তে পারে। একটি সুন্দর মেসেজ পাঠিয়ে উত্তর দেওয়ার জন্য সময় দিন।

৩. পুরোনো সুন্দর স্মৃতি মনে করিয়ে দিন

দুজনের একসঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো মনে করিয়ে দিতে পারেন। বলতে পারেন, ‘মনে আছে, আমরা কত ছোট ছোট বিষয়ে হাসতাম? আবারও সেভাবে হাসতে চাই।’ পুরোনো ছবি বা মজার কোনো স্মৃতিও শেয়ার করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, পুরোনো স্মৃতি মনে করিয়ে দিতে গিয়ে পুরোনো ঝগড়ার ফাইল যেন আবার ওপেন না হয়ে যায়!

৪. পছন্দের কিছু উপহার দিন

প্রিয় মানুষটির পছন্দের ফুল, চকলেট, বই কিংবা ছোট্ট কোনো উপহার দিতে পারেন। উপহারের দাম এখানে বড় বিষয় নয়, বরং তার পছন্দের বিষয়টি মনে রাখাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে মনে রাখবেন, দামি উপহার দিয়ে ভুল ঢাকার চেষ্টা করবেন না। কারণ ভালোবাসার সম্পর্কে উপহার আনন্দ দিতে পারে, কিন্তু ভুলের দায় মুছে দিতে পারে না।

৫. সামনাসামনি ক্ষমা চান

সুযোগ থাকলে সরাসরি দেখা করে কথা বলুন। চোখের দিকে তাকিয়ে শান্তভাবে নিজের ভুল স্বীকার করুন। তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনুন। শুধু নিজের বক্তব্য দিয়ে পুরো বৈঠক শেষ করার চেষ্টা করবেন না। আর দেখা করতে গিয়ে যদি তিনি বলেন, ‘এখন কথা বলতে চাই না’, তাহলে জোর করবেন না। অভিমান ভাঙানোরও একটা সময় আছে!

৬. তার অভিমানকে গুরুত্ব দিন

আপনার কাছে যে বিষয়টি তুচ্ছ, প্রিয়জনের কাছে সেটিই হয়তো অনেক বড় কষ্টের কারণ। তাই ‘এতটুকু বিষয় নিয়ে রাগ করছ কেন?’—এমন প্রশ্ন না করে তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন। তার অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনুন। মনে রাখবেন, সম্পর্ক কোনো বিতর্ক প্রতিযোগিতা নয়, যেখানে জিততেই হবে। কখনো কখনো প্রিয় মানুষটির অনুভূতি বুঝতে পারাটাই সবচেয়ে বড় জয়।

৭. শুধু স্যরি নয়, আচরণেও পরিবর্তন আনুন

একই ভুল বারবার করে প্রতিবার স্যরি বললে একসময় শব্দটির গুরুত্ব হারিয়ে যায়। তাই ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি নিজের আচরণ পরিবর্তনের চেষ্টা করুন। যে বিষয়টি নিয়ে প্রিয়জন কষ্ট পেয়েছেন, সেটি পুনরাবৃত্তি না করার চেষ্টা করুন। কারণ মুখে ‘আর এমন হবে না’ বলা সহজ, কিন্তু কাজে প্রমাণ করাটাই আসল পরীক্ষা।

 

সম্পর্কে অভিমান থাকবে, মনোমালিন্যও হবে। তবে ছোটখাটো ভুলকে বড় হতে না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কখনো একটি ফোনকল, কখনো একটি মেসেজ, আবার কখনো সামনাসামনি বলা ছোট্ট একটি ‘স্যরি’ সম্পর্কের দূরত্ব কমিয়ে দিতে পারে।

তবে একটা কথা মনে রাখবেন, স্যরি বলার পরপরই ‘এবার রাগ কমেছে তো?’ বলে বারবার প্রশ্ন করবেন না। এতে পরিস্থিতি আবার আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারে!

ভালোবাসার সম্পর্কে কে জিতল আর কে হারল, সেটি বড় কথা নয়। দিনশেষে দুজনের মুখে হাসি থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।