সাজেকে ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীর’ গুলিতে আহত সেনা-পুলিশের ৬ সদস্য

অপরাধ সারাদেশ

রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকের উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রায় দুই ঘণ্টা রক্তক্ষয়ী গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ এ সংঘাতের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে সেনাবাহিনীর তিন থেকে চারজন সদস্য এবং পুলিশের দুই সদস্যসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় অবরুদ্ধ অবস্থায় আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদে সাজেক থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে তার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এসপি রকিব জানান, সাজেক সড়কে স্থানীয় দুটি সংগঠন ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’র যৌথ আহ্বানে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে সাজেক ভ্যালি থেকে ফিরে আসা পর্যটকদের বহরটি উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করে তাদের আটকে দেয়। এ সময় বাঘাইহাটের শুকনাছড়াসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পিকেটাররা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে উজোবাজারে অবরোধকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় অবরোধকারীরা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে সেনাবাহিনীর তিন থেকে চারজন এবং পুলিশের দুই সদস্য আহত হন।’

উপস্থিত পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার সময় তারা আরও আগ্রাসী রূপ ধারণ করে। একপর্যায়ে অবরোধের আড়ালে আত্মগোপনে থাকা পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউপিডিএফের সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে লক্ষ্যভ্রষ্ট ও তাজা গুলিবর্ষণ শুরু করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাক্রম বর্ণনা করতে গিয়ে পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থেমে থেমে প্রায় দুই ঘণ্টা গুলিবিনিময় হয়।’

পুলিশ সুপার জানান, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং উজোবাজারের নিয়ন্ত্রণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে রয়েছে। এ ছাড়া সব পর্যটক নিরাপদে সাজেক ছেড়েছেন।’

তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘পুরো ঘটনা তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে, সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘এক পর্যায়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউপিডিএফ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সেনাবাহিনী তখন পাল্টা গুলি চালায়। এসময় কিছু সময় গোলাগুলি চলে।’

সংঘর্ষের বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) একজন মুখপাত্র বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি হয়েছে।’

ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির মধ্যেও নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পর্যটকদের জীবন সুরক্ষা নিশ্চিত করে। উজোবাজার এলাকা থেকে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার পর নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে আটকে থাকা পর্যটকদের যানবাহনসমূহ নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে পর্যটকদের সাজেক থেকে নিরাপদে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান ওসি।

সংঘাতময় পরিস্থিতির আভাস পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী এক জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন।

জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, ‘বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাঙামাটি জেলাধীন বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। একইসঙ্গে বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত পর্যটকদের আগামী বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় পর্যটকরা সঠিক সময়ে নিরাপদ এলাকায় পৌঁছে যান। বর্তমানে সাজেক এলাকায় অতিরিক্ত সেনাটহল বজায় রয়েছে এবং থমথমে শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।