চাঁদাবাজির মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার, ৩ দিন পর সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় বাদী আটক

অপরাধ কেরানীগঞ্জ রাজনীতি সারাদেশ

কেরানীগঞ্জের আলো প্রতিবেদক:

ঢাকার কেরানীগঞ্জে জমি দখল ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের তিন দিন পর ওই মামলার বাদীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকা থেকে মামলার বাদী তাজুল ইসলামকে (৫১) আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস।

এর আগে গত সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে কেরানীগঞ্জের খাড়াকান্দি বাজার এলাকা থেকে তাজুল ইসলামের করা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি জাহাঙ্গীরকে (৩৭) গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১০ (এসআরবি)। তিনি কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। মামলার প্রধান আসামি কলাতিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান আওয়াল শিকদারসহ আট আসামিকে এখনো গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে সে সময় জানায় এসআরবি-১০। মামলা ও নথি সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের তারানগর এলাকার বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন। এতে আওয়াল শিকদারকে প্রধান আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, খাড়াকান্দি এলাকায় বাদীর মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন আসামিরা। সেখানে স্থাপনা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হলে জমির মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর, হামলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জমিতে নির্মাণকাজে বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব ঘটনা ঘটে। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করা হয়।

তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারাসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর ভিত্তিতে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরে তাঁরা আদালতে হাজির না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলার নয় আসামি হলেন আওয়াল শিকদার, জাহাঙ্গীর, নাসির উদ্দিন, মহিউদ্দিন মিলন, হৃদয়, দিপু, সজিব, হৃদয় শিকদার ও আমিনুর।

এদিকে মামলার বাদী তাজুল ইসলামকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস জানান, তাঁকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। তাজুল ইসলাম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সদস্য কি না বা সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলার এজাহারভুক্ত আসামীমি কি না জানতে চাইলে, তাজুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সক্রিয় বা পদে থাকা কেউ নয় বলে জানান কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস। তবে এ সময় ওসি তাজুল ইসলামকে ‘দুষ্টু লোক’ বলেও আখ্যা দেন। তাজুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা ইসলাম অভিযোগ করে জানান, তাজুল ইসলামকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনরকম অভিযোগ বা পূর্বের মামলা ছাড়াই তাকে জোড়পূর্বক ধরে নিয়ে গিয়ে এই মামলার আসামী করা হয়েছে বলেও দাবী করেন তিনি।