জাকাতের আশায় দীর্ঘ লাইন, ১০২ বছরের বৃদ্ধা ফুলবানুর আকুতি

Uncategorized

মেহেদী হাসান :

পবিত্র মাহে রমজানে জাকাত পাওয়ার আশায় রাজধানীর কেরানীগঞ্জের নজরগঞ্জ এলাকার হাজী দিদার হোসেন রোডে ভিড় জমিয়েছেন শত শত অসহায় ও দুস্থ মানুষ।

 সকাল থেকেই জাকাত নেওয়ার অপেক্ষায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় গরিব ও বয়স্ক নারী-পুরুষদের

সকাল ১০টার দিকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ১০২ বছর বয়সী বৃদ্ধা ফুলবানু বলেন, “সকাল থেকেই দাঁড়িয়ে আছি জাকাতের আশায়। কী পাবো জানি না, তবুও গরিব মানুষ—এই আশাতেই দাঁড়িয়ে আছি।” তার মতো অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও অসহায় মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের পরিচিত ব্যবসায়ী ও ধনী ব্যক্তি হাজী দিদার হোসেনের পক্ষ থেকে প্রতিবছর রমজানে জাকাত বিতরণ করা হয়।

 তার নামেই এলাকায় একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে—হাজী দিদার হোসেন রোড। এলাকাবাসীর মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন।

তবে জাকাত নিতে আসা অনেকের অভিযোগ, জাকাতের আশায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে তাদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই বলেন, “জাকাত দেওয়া অবশ্যই ভালো কাজ, কিন্তু যদি তা গরিব মানুষের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়, তাহলে তাদের এত কষ্ট করে লাইনে দাঁড়াতে হতো না।”

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, ধনী ব্যক্তিদের জন্য জাকাত দেওয়া ফরজ এবং গরিবদের জন্য তা গ্রহণ করা বৈধ। অনেক আলেমদের মতে, জাকাত এমনভাবে দেওয়া উত্তম যাতে গ্রহীতার সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে এবং তাকে অপমান বা কষ্টের মুখে পড়তে না হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, জাকাত বিতরণের ক্ষেত্রে আরও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসহায় মানুষদের কথা বিবেচনা করে তাদের বাড়িতে পৌঁছে জাকাত দেওয়া হলে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হবে।

এলাকাবাসী আশা করছেন, হাজী দিদার হোসেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ভবিষ্যতে জাকাত বিতরণে আরও মানবিক ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতি গ্রহণ করবেন, যাতে অসহায় মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হয়।