মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম তেল সমৃদ্ধ দেশ কুয়েতে স্থানীয় নাগরিকদের তুলনায় প্রবাসীর সংখ্যা বেশি। জীবিকার টানে বহুবছর ধরে এদেশে এসেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ। বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ বাংলাদেশি এই দেশে বসবাস ও কর্মরত আছেন। তবে তাদের মধ্যে কিছুসংখ্যক প্রবাসী বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে জেলবন্দি পড়েছেন।
তেমনি এক পরিসংখ্যান পেয়েছি আমরা যেখানে বলা হয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ২২৭ জন বাংলাদেশি প্রবাসী বিভিন্ন অপরাধে কুয়েতের কারাগারে আটক রয়েছেন। অপরাধের কারনে আটক শাস্তিপ্রাপ্তদের তালিকা দেখুন এক নজরেঃ
মাদক পাচার ও ব্যবহারের অপরাধে আটক ১৬০ জন, অপহরণ মামলায় আটক ২৭ জন, জাল/জালিয়াতি মামলায় আটক ২৩ জন, খুনের মামালায় আটক ১৭ জন, চুরির মামলায় আটক ১৭ জন, ধর্ষণ মামলায় আটক ৫ জন, ডাকাতি বা ছিনতাই মামলায় আটক ৩ জন, চাঁদাবাজির মামলায় আটক ৩ জন, ঘুষের মামলায় আটক ২ জন, মানবপাচার মামলায় আটক ১ জন, অর্থপাচার মামলায় আটক ১ জন ও অন্যান্য মামলায় আটক আরো ১৭ জন। বিচার বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে প্রত্যেককে তাদের অপরাধের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদে সাজা ভোগ করতে হবে।
বাংলাদেশ দূতাবাস বারবার সকল প্রবাসীকে সতর্ক করছে যেন কেউ কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হোন। এ ধরনের ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে ও অন্যান্য প্রবাসীদের উপর প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে চলতি বছরে কুয়েত থেকে নির্বাসিত হয়েছে ৩৪ হাজার প্রবাসী। আরবি দৈনিকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দেশের ৩৪,১৪৩ জন প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। নির্বাসিতদের মধ্যে পুরুষ ও নারী উভয়ই ছিলেন।
নির্বাসনের উল্লেখযোগ্য কারণসমূহঃ
আকামা আইন লঙ্ঘন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, সামাজিক/আচরণগত অপরাধ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—দেশের আইন ভঙ্গকারীদের প্রতি ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।
এছাড়া কুয়েতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ আল ইউসুফ জানা “আইনের উপর কেউ নয়।”
কুয়েত প্রতিনিধি – কাউসার আহমেদ বিহন :

