ইমরান

এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ও থ্রি পাস জয় করলেন কেরানীগঞ্জের ইমরান

কেরানীগঞ্জ সারাদেশ

দীর্ঘ ১৬ দিনের স্বপ্ন, সংগ্রামে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প (EBC) জয় করার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম কঠিন থ্রি পাস ট্রেক সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন কেরানীগঞ্জের তরুণ ইমরান ।

লুকলা হয়ে প্রচলিত পথে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে না গিয়ে তিনি ভিন্ন একটি পথ বেছে নেন। কাঠমান্ডু থেকে ফাপলু হয়ে শুরু করেন তার হিমালয় অভিযান। উদ্দেশ্য ছিল শুধু এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানো নয়, বরং পুরো এভারেস্ট রিজিয়নের প্রকৃতি, দুর্গম পথ ও পর্বতজীবনকে কাছ থেকে অনুভব করা।

অভিযানের প্রথম তিন দিনে কাঠমান্ডু থেকে জিপে ফাপলু পৌঁছে সেখান থেকে ট্রেক শুরু করেন তিনি। ভ্যাংকার হয়ে পৌঁছান শেরপাদের রাজধানী হিসেবে পরিচিত নামচে বাজারে, যার উচ্চতা প্রায় ৩ হাজার ৪৪০ মিটার। লুকলার তুলনামূলক ব্যস্ত পথ এড়িয়ে এই রুটে হিমালয়ের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ পান তিনি।

চতুর্থ থেকে সপ্তম দিনে নামচে বাজার থেকে ডিবুচে, ডিংবোচে, লোবুচে হয়ে গোরাকশেপে পৌঁছান। উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে অক্সিজেন, বাড়তে থাকে ঠান্ডা ও শারীরিক চ্যালেঞ্জ। প্রায় ৫ হাজার ১৬৪ মিটার উচ্চতার গোরাকশেপ থেকে শেষ পর্যন্ত পৌঁছান ৫ হাজার ৩৬৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে।

খুম্বু আইসফলের সামনে দাঁড়িয়ে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর সেই মুহূর্তকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় সময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।

তবে EBC-তেই শেষ হয়নি তার অভিযান। অষ্টম থেকে চতুর্দশ দিন ছিল আরও কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় তিনি থ্রি পাস ট্রেকের অংশ হিসেবে জংলা হয়ে চো লা পাস অতিক্রম করেন। প্রায় ৫ হাজার ৪২০ মিটার উচ্চতার এই পাসে খাড়া বরফের পথ পাড়ি দিতে হয়। দুর্গম এই পথ পেরিয়ে তিনি পৌঁছান গোকিওতে।

গোকিও লেকের প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায় নীল-সবুজ পানির অপরূপ সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করে। পরদিন ভোরে হেডল্যাম্প জ্বালিয়ে গোকিও রির চূড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। প্রায় ৫ হাজার ৩৫৭ মিটার উচ্চতার গোকিও রির চূড়া থেকে একই সঙ্গে এভারেস্ট, লোৎসে, মাকালু ও চো ওয়ুসহ চারটি আট হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার পর্বতের দৃশ্য দেখার সুযোগ পান তিনি।

এরপর গোকিও হয়ে তিনি অতিক্রম করেন রেনজো লা পাস। প্রায় ৫ হাজার ৩৪৫ মিটার উচ্চতার এই পাস থেকে গোকিও লেক ও এভারেস্টের দৃশ্য তার অভিযানের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

১৫ ও ১৬তম দিনে রেনজো লা পাস অতিক্রম করে লুম্ডে ও নামচে বাজার হয়ে ফেরার পথ ধরেন তিনি। পরে কাঠমান্ডু হয়ে দেশে ফিরে আসেন।

এই দীর্ঘ অভিযানের পুরোটা সময় পরিবারের সদস্যদের কথা মনে পড়েছে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ও গোকিও রির চূড়ায় দাঁড়িয়ে বাবা-মা, ভাই-বোনের কথা সবচেয়ে বেশি মনে হয়েছে তার।

তিনি বলেন, পরিবারের দোয়া ও ভালোবাসা ছাড়া মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো কঠিন ঠান্ডার মধ্যে এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব হতো না। একই সঙ্গে বন্ধু ও সহযোদ্ধাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তার ভাষ্য, মানুষের জন্য কাজ করতে তাকে অনুপ্রাণিত করা সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এই অর্জনের সময়ে তিনি গভীরভাবে স্মরণ করেছেন।

নিজেকে কেরানীগঞ্জের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে পুরো অর্জনটি কেরানীগঞ্জের মানুষের প্রতি উৎসর্গ করেছেন এই অভিযাত্রী।

তার মতে, এ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি কেরানীগঞ্জেরও অর্জন।