কেরানীগঞ্জে সাইফুল হত্যা মামলার বাদীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা, স্বামী-স্ত্রী গুরুতর আহত

অপরাধ আইন ও আদালত কেরানীগঞ্জ শুভাড্যা

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পারগেন্ডারিয়া সাতপাখি এলাকায় চাঞ্চল্যকর সাইফুল হত্যা মামলার বাদীর ওপর ভয়াবহ ও প্রাণনাশী সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় সাইফুল হত্যা মামলার বাদী লাকী এবং তার স্বামী শুক্কুর গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বোন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পারগেন্ডারিয়ার সাতপাখি এলাকায় ‘পুলিশের সোর্স’ হিসেবে পরিচিত সাইফুল হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই মামলার বাদী লাকীর আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আসামীরা সাক্ষ্যদান বাধাগ্রস্থ করছিলেন এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী লাকীর বিউটি পার্লার ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে ১ নম্বর বিবাদী মুরাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের এবং সাইফুল হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে মামলার প্রধান আসামি জানে আলম ও মুরাদ একজোট হয়ে এই পরিকল্পিত হামলার নীল নকশা তৈরি করে।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বিবাদী জানে আলম ও মুরাদের নেতৃত্বে খাদেম রফিক ও হাকিমসহ অজ্ঞাতনামা একাধিক সন্ত্রাসী দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাদী লাকী ও তার স্বামী শুক্কুরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাদের পিটিয়ে এবং অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে।
আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের প্রাইম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই নৃশংস হামলার ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশিয় অস্ত্রহাতে মহড়া দিচ্ছে। এতে করে মামলাটির সাক্ষী, বাদীর পরিবার এবং সাধারণ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
এই বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।