দেশীয় খামারিদের স্বার্থে বিদেশি গরু আমদানির প্রয়োজন নেই: প্রতিমন্ত্রী টুকু

জাতীয় সারাদেশ

দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় পার্শ্ববর্তী দেশসহ অন্য কোনো স্থান থেকে গরু আনার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, দেশে কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত গবাদিপশু রয়েছে এবং খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

শনিবার সকালে গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী দেশে বর্তমানে কোরবানির জন্য প্রায় এক কোটি ২৩ লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। বিপরীতে চাহিদা প্রায় এক কোটি এক লাখ। অর্থাৎ প্রায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তাই বিদেশি গরু আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, “আমাদের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিরা সারা বছর অত্যন্ত যত্ন নিয়ে গবাদিপশু লালন-পালন করেন। তারা যেন ন্যায্যমূল্যে পশু বিক্রি করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে।”

হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। হাটে মেডিকেল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে অসুস্থ পশুকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পশুর জ্বর পরীক্ষা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

কোরবানির বিষয়ে সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য কোরবানি দেই। তাই কোরবানি সহিভাবে হওয়া জরুরি।” তিনি চোরাই পথে আসা গরু কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান।

সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকাতে ইতোমধ্যে বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। “আমরা স্বাবলম্বী হতে চাই। দেশের স্বার্থই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,” বলেন টুকু।

বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, জনসংখ্যার ভিত্তিতে হাটের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কোথাও পশুর ঘাটতি বা অতিরিক্ত চাপ আছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

গাবতলী হাটে ভারতীয় গরু থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে যাতে দেশীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন। তিনি দেশীয় পণ্য কেনায় জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে তা দ্রুত দূর করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে জাল টাকা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনও রাখা হয়েছে, যাতে কেউ প্রতারণার শিকার না হন।