দোহারে ঘুষের অভিযোগে ক্লোজড হওয়া ওসি এবার ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবির দায়িত্বে

Uncategorized অপরাধ অর্থনীতি] আইন ও আদালত লাইফ স্টাইল সারাদেশ

রাফি আল ইমরান:

নারায়নগঞ্জে ঢাকা জেলা দক্ষিন ডিবির ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হওয়ার ঘটনায় সম্প্রতি ঢাকা জেলা দক্ষিন ডিবির ওসি সুমনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার যায়গায় নতুন ওসি হিসিবে যোগদান করেছে রেজাউল করিম। তবে রেজাউল করিমকেও গত বছর দোহার থানা থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠার পরে প্রত্যাহার করা হয়েছিলো। ঢাকা জেলা ডিবির বিতর্কিত ঘটনায় ওসি প্রত্যাহারের পর নতুন করে বিতর্কিত আরেকজন পুলিশ অফিসারকে ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ঘটনায় এলাকা জুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

 

জানা যায়,  সম্প্রতি নারায়নগঞ্জে ঢাকা জেলা দক্ষিন ডিবির ৪ অফিসারকে চাদাবাজির অভিযোগে গনপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয় জনসাধারন। সেই সাথে নারায়নগঞ্জ থানায় ডিবির এই সদস্যদের বিরুদ্ধে চাদাবাজির মামলা দায়ের করা হয় ।  এই ঘটনায় ডিবির ওসি সুমনকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তার জায়গায় নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় রেজাউল করিম কে। তবে অনুসন্ধান করে দেখা যায় , গত বছর দোহার থানায়ও অপরাধী আটক করে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছিলো। রেজাউল করিম ২০২৫ এর ফেব্রুয়ারীতে দোহার থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে কিছু আসামী ধরা পরলেও অজানা কারনে তিনি গ্রেপ্তার করতেন না।

 

 নাম প্রকাশ না করার শর্তে দোহার থানা স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা জানান, রেজাউল করিম দোহার থানায় ওসির দায়িত্ব নেয়ার পরে রাজনৈতিক মামলার আসামীদের আটক করেও ছেড়ে দিতো, গ্রেপ্তার দেখাতো না। এমন দুই একটা ঘটনা ঘটার  পরে বিষয়টা আমাদের আমলে আসে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুন মাসে ওসি সাহেব, একটি  মামলায় দোহার থানা যুবলীগ নেতা আলমাছকে  গ্রেপ্তার করেও থানায় এনে পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেয়। শুনেছি মোটা অংকের লেনদেন করে আটকের পরে ছেড়ে দিয়েছে।  বিষয়টি আমরা জানার পরে প্রতিবাদ করি এবং সেই সময় সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরে ৬ জুন তাকে ক্লোজড করা হয়।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা শাখা(ডিবি) দক্ষিনের নবনিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, দোহার থানায় আমি দায়িত্ব থাকা অবস্থায় যুবলীগ নেতা আলমাছকে আটক করে দোহার থানায় আনা হয়,

আমার অনুপস্থিতিতে  তৎকালীন দোহার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমাকে না জানিয়ে সেই যুবলীগ নেতাকে ছেড়ে দিলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। পরে আমাকে দোহার থানা থেকে সরিয়ে  দেওয়া হয়েছিলো ।

 

ঢাকা জেলার দক্ষিন শাখার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন,  রেজাউল করিম যখন দোহারে দায়িত্ব ছিলেন তখন আমি ঢাকা জেলায় ছিলাম না। তখন কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে তৎকালীন ইনচার্জ রেজাউল করিমকে কেনো বদলি করা হয়েছিলো সেটি আমার জানা নেই।#

 

যে কারনে ডিবির ওসিকে পরিবর্তন করা হয়েছে, নতুন নিয়োগ দেয়া ওসিও সেই একই অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় এলাকা জুড়ো পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।