জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের চেতনার মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের মতো জুলাই বিপ্লবেও জনগণ বুঝিয়ে দিয়েছে, এ দেশের মানুষকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ১৯৭৬ সাল থেকেই সরকারিভাবে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু গত ১৭ বছর শেখ হাসিনা সরকার দিবসটি পালন করতে দেয়নি। ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিরও সূচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে এবং কীভাবে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র এ দেশের জনগণের, অন্য কারও নয়।
স্বাধীনতার পরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। সরকারের সমালোচনা করলেই মানুষের প্রাণ দিতে হতো। এসব হত্যাকাণ্ড চালানোর জন্য তারা রক্ষীবাহিনী গঠন করেছিল। ৭ নভেম্বর সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে মুক্ত করেছিল।
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ৩ নভেম্বর আবারও বাকশাল কায়েমের উদ্দেশ্যে ভারতের সমর্থনে অভ্যুত্থান ঘটানো হয়েছিল। কর্নেল তাহের নভেম্বর পর্যন্ত জিয়াউর রহমানকে সমর্থন করলেও পরে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগিয়ে পাল্টা বিদ্রোহের চেষ্টা করেন। তখন সেনাদের মধ্যে ‘সিপাহি সিপাহি ভাই ভাই, অফিসারদের কল্লা চাই’ স্লোগান দেওয়া হয়।
রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে কর্নেল তাহেররা সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে আরেকটি রক্ষীবাহিনী গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। আজকের আধুনিক সেনাবাহিনী গঠনে জিয়াউর রহমানের অবদান রয়েছে।
শেখ হাসিনার শাসনামলের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনা তার পিতার চেয়েও বড় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এত মানুষের রক্ত ঝরার পরও তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসার কথা বলছেন। তখন প্রশ্ন ওঠে, আবু সাঈদ, ওয়াসিম, মুগ্ধ ও ফাইয়াজদের আত্মত্যাগ কি বৃথা যাবে? বাংলার মাটি বীরের মাটি। এখানে কোনো পলাতক ফ্যাসিস্টের জায়গা হবে না।
তিনি আরও বলেন, এ দেশে একদিকে শেখ হাসিনা ও এরশাদের মতো ফ্যাসিস্টের জন্ম হয়েছে, অন্যদিকে শহীদ জিয়াউর রহমানের মতো অমিতবিক্রম নেতা এবং বেগম খালেদা জিয়ার মতো আপসহীন নেত্রীর জন্ম হয়েছে। কারাবরণ করেও গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস করেননি খালেদা জিয়া।
শেখ হাসিনার ভারত অবস্থান প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, তিনি এখন ভারত থেকে আওয়াজ দিচ্ছেন, ‘আমি ফিরে আসব’। আর জনগণ ঢাকঢোল পিটিয়ে তাকে সংবর্ধনা জানাবে বলে ভাবছেন। বাস্তবে তিনি দিবাস্বপ্নে বসবাস করছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, গত ১৫ বছর তারা ৭ নভেম্বর উদযাপন করতে পারেননি। তবে গতকাল সমগ্র জাতিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দিবসটি উদযাপন করতে দেখা গেছে। ৭ নভেম্বর এমন একটি ঐতিহাসিক দিন, যেদিন সিপাহি-জনতা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিল।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে সংগীতশিল্পী জেমসকে ‘আমার সোনার বাংলা’ গান পরিবেশনের সময় বারবার শহীদ জিয়াউর রহমানের অংশ বাদ দিতে বাধ্য করত ছাত্রলীগ। তবে গতকাল তাদের আয়োজিত কনসার্টে জেমস গানটি গাওয়ার সময় শেখ মুজিবের অংশ বাদ দিতে তাঁরা বাধ্য করেননি। কারণ, তারা চান, সবাই যার যার প্রাপ্য সম্মানটুকু পান।
রাকিব আরও বলেন, আওয়ামী লীগ বারবার দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এখন দেশ ছেড়ে পালিয়েও তারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বাংলাদেশ কোনো সংকটে পড়লে ছাত্রদল সবার আগে রাজপথে নেমে ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করবে।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম প্রমুখ।

