বিমান বাহিনীর বরখাস্ত হওয়া ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার রাতে বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার জামান দীপকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে গিয়েছিলেন তাহসিফ। তাদের সঙ্গে ছিলেন আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী এক তরুণী। ওই রেস্টুরেন্টে প্রবেশ ও বের হওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।
পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ অক্টোবর রাতে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় যাওয়ার আগে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ রোডে অবস্থিত ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’-এ অবস্থান করেন তাহসিফ ও তার বন্ধু দীপ। সেখানে তারা এক ঘণ্টারও বেশি সময় ছিলেন।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তাহসিফ, দীপ ও এক তরুণী মোটরসাইকেলে করে নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে পৌঁছান।পরে তিনজনকে একসঙ্গে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
রেস্টুরেন্টের আরেকটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও ওই তরুণী লিফটের সামনে অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণ পর হেলমেট পরা অবস্থায় সেখানে উপস্থিত হন দীপ। এরপর তিনজন একসঙ্গে লিফটে ওঠেন।
প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে তাদের রেস্টুরেন্ট থেকে বের হতে দেখা যায়। পরে তারা মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান।
রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফ, দীপ ও ওই তরুণী কোথায় গিয়েছিলেন, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশের একাধিক ইউনিট।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফ ওই তরুণীকে কোথায় নামিয়ে দিয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই নারী কতক্ষণ তাদের সঙ্গে ছিলেন, কোথায় তাদের কাছ থেকে আলাদা হয়েছেন এবং এরপর তাহসিফ ও দীপ কীভাবে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় পৌঁছান—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আরও জানা যায়, মামলাটি নৌ-পুলিশ তদন্ত করছে। এ ঘটনায় দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এক কর্মকর্তা জানান, গত সোমবার রাতে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় টহল পুলিশের একটি দলের সঙ্গে দীপের দেখা হয়েছিল। সে সময় তার শরীরে নোংরা আবর্জনা লেগে ছিল।
টহল পুলিশের এক সদস্য দীপের শরীরে আবর্জনা লেগে থাকার কারণ জানতে চান। ওই সময় দীপ নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয় দেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ না করে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, মামলার তদন্তে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাহসিফ ও দীপের মোবাইল ফোনের কললিস্ট এবং হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অ্যাপে তাদের যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তদন্তকারীরা বলছেন, ওই তরুণীর পরিচয় শনাক্ত, দীপের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সংগৃহীত ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

