ঢাকা কেরানীগঞ্জে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতাকে বিদেশে পাড়ি দিতে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে।
গত বছরের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকে দেশত্যাগ করলেও তৃণমূল পর্যায়ের বহু নেতা-কর্মী দেশ ত্যাগে ব্যর্থ হন। পালাতে না পারা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নুর হোসেন। নুর হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলেও জানা যায়।
স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা জানান, ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণায় চুনকুটিয়ায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ওপর হামলা চালায় সেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মীরা। হামলার ঘটনাস্থলে সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নুর হোসেন সেখানে ছিলো বলে জানা যায়। সেই সময় সেচ্ছাসেবক লীগের হামলায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গুরুতর আহত হন।
সেচ্ছাসেবক লীগের হামলায় বিএনপির জাতীয় নেতা আহত হওয়ার পরেও বিএনপি নেতারা তাদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করায় স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, নুরু বিদেশ যাত্রায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও থানা পুলিশ ম্যানেজ করতে সহযোগীতা করছেন নুরুর ভাই ও সাবেক জিনজিরা ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস।
অনুসন্ধানে উঠে আসে, আনিস নুর হোসেনের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও থানা পুলিশকে ম্যানেজ করিয়ে দিতে সহযোগীতা চান জিনজিরা ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি জীবন চৌধুরী মামুনের কাছে। পরবর্তীতে মামুনের সহযোগীতায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) মো. আজমের সাথে যোগাযোগ করেও নুর হোসেনের নামে মামলা থাকায় সেই চেষ্টায় ব্যার্থ হন।
সেচ্ছাসেবক লীগ নেতার পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে সহযোগীতা করার কারন জানতে জীবন চৌধুরী মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আনিস তাকে নুর হোসেনের পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের বিষয়ে থানায় সুপারিশ করতে বলেন। তবে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এএসআই আজমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি মামুনকে জানান, নুর হোসেনের নামে মামলা রয়েছে। তবে একই ইউনিয়নের বাসিন্দা নুর হোসেন সেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ছিলেন কিনা তা জানেন না বলে জানান মামুন। তিনি আরো বলেন, আনিস মিথ্যা কথা বলে আমাকে দিয়ে তদবীর করানোর চেষ্টা করেছিল, আনিস আমার কাছে তার ভাই নুর হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করেছিলো।
সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান আনিসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিগত সময়ে তার অবর্তমানে তার ভাইকে একটি রাজনৈতিক মামলায় আসামী করা হয়েছিলো। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উপর হামলা ও রাজনৈতিক সহযোগীতায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করানোর ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কথা বলবেন বলে কল কেটে দেন।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এএসআই মো. আজম জানান, নুর হোসেন মামলার আসামি হওয়ায় তার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়া সম্ভব নয় বলে সে সময়ই তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
আরোও পড়ুনঃ নির্বাচন হলে দেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে : সেনাসদর

