সরকারি স্কুলে গরিবের সন্তানরা পড়ে বলেই হয়তো দেখার কেউ নেই। আশপাশের কোনো বেসরকারি স্কুলের সামনে এমন ময়লার স্তুপ দেখা যায় না। কিন্তু আমাদের বাচ্চাদের প্রতিদিন এই দুর্গন্ধের মধ্যেই ক্লাস করতে হয়।’ ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন এক অভিভাবক।
ঢাকার কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের ইমামবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চলাচল। ময়লার দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই প্রতিদিন পাঠদান ও পাঠগ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার জানিয়েও মিলছে না কোনো প্রতিকার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ঘেঁষা সড়কের একপাশজুড়ে স্তূপ করে ফেলা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা। এসব ময়লা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ। স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীকে দুর্গন্ধের কারণে অস্বস্তি প্রকাশ করতেও দেখা যায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ময়লার দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে টিফিনের সময় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো খাবার খেতে পারে না। খেলাধুলা কিংবা বিদ্যালয়ের খোলা পরিবেশে সময় কাটানোও তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা বলেন, ময়লার গন্ধে বাচ্চারা স্কুলে খাবার খেতে পারে না, ক্লাস করতে পারে না, খেলাধুলাও করতে পারে না। আমরা এই সমস্যা থেকে দ্রুত পরিত্রাণ চাই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুপালী সাহা বলেন, এর আগেও বহুবার ময়লা অপসারণের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা আমাদের কথা না শুনে স্কুলের সামনেই ময়লা ফেলে রাখে। ময়লার দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়। এমনি স্থানীয় এলাকবাসীও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছিয়েন। তবু এই দূর্ভোগ যেন শেষ হবার না, আমরা এখম এর স্থায়ী সমাধান চাই।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এভাবে ময়লা ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ময়লার স্তূপ অপসারণ এবং ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের সামনে ময়লা ফেলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কমলমতি শিক্ষার্থীদের সরকারি বিদ্যালয়ের সামনে ময়লা ফেলার বিষয়ে অত্র এলাকার ময়লা আবর্জনা অপসারণের কাজে নিয়োজিত হারুন ও চঞ্চল এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে, কল রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুকের সাথে কথা হলে তিনি দ্রুতই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।

