নারায়ণগঞ্জে গণপিটুনি খাওয়ার পরও ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবির বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ

Uncategorized অপরাধ আন্তর্জাতিক তেঘরিয়া সম্পাদকীয় সারাদেশ

বিতর্ক কোন ভাবেই পিছু ছাড়ছে না ঢাকা জেলা দক্ষিন ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে।  জেলা পুলিশের গুরুত্বপূর্ন এই অংশের কয়েকজন সদস্য কিছু দিন আগেই নারায়নগঞ্জে চাদাবাজির অভিযোগে গনপিটুনির শিকার হয় ।  ঐ ঘটনায় প্রত্যপহার করা হয়  সেই সময়ের ঢাকা জেলা দক্ষিন ডিবির ওসি শফিকুল ইসলাম সুমন সহ ৪ জনকে।  তবে গনপিটুনি খাওয়া কিংবা ওসির বরখাস্ত হওয়া কোন ঘটনাই বন্ধ করতে পারে নি, ঢাকা জেলা দক্ষিন ডিবির মামলা বানিজ্য।  এখনো সেই আগের মতোই চলছে ডিবি পুলিশের অর্থ লেনদেনের অনৈতিক কার্যক্রম।  ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনই ব্যবস্থা না নিলে আবারো যে কোন সময় অনৈতিক লেনদেন করতে গিয়ে মবের শিকার হতে পারেন ডিবি পুলিশ এমনটাই বলছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

 

গত ১০ জুন দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানায় ডিবি পুলিশ কতৃক দায়েরকৃত একটি রাজনৈতিক মামলার ( মামলা নং:- ৩৬/৩৬৩) বিষয়ে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, ৯ জুন ভোরে ঝিলমিল প্রযেক্ট সংলগ্ন রাস্তায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামীলীগের ১০-১৫ জন নেতাকর্মী সাবেক কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের স্লোগান দিয়ে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে।  ঝটিকা মিছিলের প্রেক্ষিতে পরের দিন ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে দ: কেরানীগঞ্জ থানায় শাহীন আহমেদকে প্রধান আসামী করে ১৩ জন নামীয় এবং ১৫০ জন অজ্ঞাত নামা আসামী করে সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।  মামলায় জব্দ তালিকার নথিতে আলামত হিসেবে দেখানো হয়  ১৬ টি লাঠি এবং ১৩ টি ভাংগা ইটের টুকরো।

মামলাটি দায়ের করার পরে গত ১ মাসে ডিবি পুলিশ এই মামলায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।  অনুসন্ধান এবং দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মামলায় এজহারনামীয় কয়েকজন আসামী প্রকাশ্যে থাকলেও ডিবি পুলিশ অজানা কোন কারনে তাদের গ্রেপ্তার করে নি, আর যাদের গ্রেপ্তার করেছে, তারা এই মামলা সংশ্লিষ্ট ছিলেন না।  মূলত মামলাটিকে পুজি করে গ্রেপ্তারের আতঙ্ক তৈরী করে অনৈতিক বানিজ্য করা হচ্ছে এমন টাই অভিযোগ ঢাকা জেলা দক্ষিন ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে।  এই মামলায় যাদের কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা কেও কেও আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আবার কেও কেও রাজনীতির সাথে সম্প্রিক্ত নয় এমনটাও জানা গেছে।

চলতি মাসের শুরুতে কোন্ডার পানগাও থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন নারায়নগঞ্জ ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি রেদওয়ান আহমেদ নিনাদ (৩২) কে।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেদওয়ানের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, (পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য ও ডিবি পুলিশের টাকা লেনদেনের তথ্য প্রমান এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে) রেদওয়ান অনেক আগে ছাত্রলীগ করতো নারায়নগঞ্জে।  যেদিন ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে আসে, তাকে এবং তার ছোট ভাই আনানকে এসেই ডিবির গাড়িতে তুলে।  দুই ভাইকেই

গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখায় ডিবি সদস্যরা।  পরিবারের আকুতি মিনতির পরে দুই ভাইকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য মোটা অংকের টাকা দাবী করে ডিবি সদস্যরা।  ডিবি পুলিশের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে না পারায় বড় ভাই রেদওয়ানকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ।  এবং সাড়ে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে  ছোট ভাই আনানকে ছেড়ে দিয়ে যায় তারা।

চলতি মাসের শুরুতে এই মামলায় কোন্ডা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে। তার কাছ থেকে মোটা অংকের  টাকা নিয়েও তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। যার তথ্য প্রমান সব ই প্রতিবেদকের নিকট সংরক্ষিত আছে।

একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কোন্ডায় আল আমিন নামে এক যুবককে।  তার পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সে যুবলীগের সদস্য।  তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি জানান ( যারা বক্তব্য দিয়েছে, তাদের  পরিচয় দিলে ডিবি তাদের হয়রানি করতে পারে, সেই কারনে তাদের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়েছে তারা) আলামীন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো না।  তবে তার সাথে জমি জমা সংক্রান্ত এলাকায় ঝামেলা ছিলো, সেই ঝামেলার রেস ধরে প্রতিপক্ষ ডিবিকে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে  আলামীনকে গ্রেপ্তার করিয়েছে।  শুধু আলামীন না, আলামীনের পরিবারের কেও জড়িত নয় রাজনীতির সাথে।  যেদিন আলামীনকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেদিন আলামীণের পরিবারের কাছ থেকেও আলামীনকে টর্চার করবে না, এই মর্মে মোটা অংকের টাকা নেয় ডিবি।  মুখ খুললে আলামীনের ওপর জেলে নির্যাতন করা হবে, এই ভয়ে এই বিষয়ে কথা বলতে রাজী নয় আলামীনের পরিবার।  তবে স্থানীয়দের বক্তব্য এই প্রতিবেদকের কাছে  সংরক্ষন করা আছে।

একই মামলায় ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে শুভাঢ্যা ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতা দুলাল শরীফকে।  তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তার কাছ থেকে উৎকোচ নেয়ার পরেও তাকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।  মূলত উৎকোচের পরিমান কম হওয়ায় তা নিয়েও গ্রেপ্তার করা হয় দুলালকে এমনটাই দাবী করছে স্থানীয়রা।

শুধু রাজনৈতিক মামলা নয়, ঢাকা জেলা দক্ষিন ডিবি পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা নিয়ে তাদের ছেড়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে ।  ঢাকা জেলা দক্ষিন ডিবির একটি টিম গত সপ্তাহে নবাবগঞ্জে এক মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় এমন অভিযোগও রয়েছে ।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫ আগষ্টের আগের পুলিশিং কিছুদিন বন্ধ থাকার পরে আবারো ফিরে এসেছে।  ডিবি পুলিশ আগের মতোই তাদের অনৈতিক কার্যক্রম চালু রেখেছে।  ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে কিছুদিন আগেও এই অনৈতিক লেনদেনের কারনে তারা গনপিটুনি খেলো, তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হলো, তারপরেও তারা একই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।  ঢাকা জেলা পুলিশ যদি এদের এই অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যাবস্থা না নেয়, তাহলে আবারো মবের কবলে পরবে পুলিশের এই গুরুত্বপূর্ন বাহিনী । আর তখন এর দায় ঢাকা জেলা পুলিশকেই নিতে হবে।

কি বলছে ডিবির অফিসার ইনচার্জ ??

ডিবি ওসি রেজাউল করিম
ডিবি ওসি রেজাউল করিম

গত এক মাসে অনৈতিক এসব লেনদেন এবং ডিবি পুলিশের অনিয়মের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা দক্ষিন ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিমের সাথে কথা হলে, তিনি সমস্ত বিষয় অস্বীকার করেন।  সেই সাথে তিনি বলেন, কোন অপরাধীকেই তারা ছাড় দেন না।

কি বলছে ঢাকা জেলা পুলিশ??

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার: তরিকুল ইসলাম।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার: তরিকুল ইসলাম।

 

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার দক্ষিন জোনের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলামের সাথে কথা  হলে তিনি বলেন,এর আগে নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি ও মবের ঘটনায় ঢাকা জেলা ডিবি দক্ষিনের ওসিসহ ৪ জন কর্মকর্তাতে প্রত্যাহার করা হয়েছিলো,একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে পুলিশের উপর আস্থা হারাবে জনগন। আবারও ঢাকা জেলা দক্ষিন ডিবির কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি অথবা কোনো ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেনের প্রমান পেলে ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সেসকল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। #