ঢাকার কেরানীগঞ্জে মডেল থানায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ রিয়াজ হত্যা মামলার কয়েকজন আসামীসহ বেশ কয়েকজনকে পুলিশের হাত থেকে বাচিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কলাতিয়া ইউনিয়নের নতুন খারাকান্দি গ্রামের কলাতিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেনের বাড়িতে গভীর রাতে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিলো। সে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, রিয়াজ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হলের ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আলমগীর, ছাত্র আন্দোলনে ঘাটারচরে ছাত্রদের উপর প্রকাশ্যে গুলি করা যুবলীগ নেতা জ্বিলানী, আহসান উল্লাহ টিপু, খলিলসহ বেশ কয়েকজন নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে রিয়াজ হত্যা মামলার আসামীদের উপস্থিতির কথা জানতে পেরে কলাতিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ নিরু মিয়া ও এসআই হান্নানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গভীর রাতে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তবে এসময় কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশকে বাধা দেন বলে জানা যায়।
নাম গোপন রাখার শর্তে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহ্বায়ক জাহাঙ্গীরের বোন জামাই হলেন আলী হোসেন, যিনি ওই বাড়ির মালিক এবং আলমগীরের বড় ভাই। রাতে বাড়িতে পুলিশ আসার খবর পেয়ে জাহাঙ্গীর পুলিশকে প্রবেশে বাধা দেন। এছাড়াও এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কলাতিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মো. মিলন।
কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক (এসআই) হান্নানের সাথে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করবেন না বলে জানান তিনি।
তবে কলাতিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ নিরু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে গেলেও রাত গভীর হওয়ায় বাড়ির গেট না খোলায় তারা ফিরে আসেন বলে জানান তিনি।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা মডেল শাখা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পুলিশ যখন সেখানে গিয়েছিলো তখন বাড়িতে মহিলা মানুষ ছাড়া কেউ না থাকায় তাই পুলিশ ফিরে গিয়েছে। বাধা প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বিকার করে বলেন, ওয়ারেন্ট থাকলে ধরবে এতে আমার কোন বাধা নাই।
আরোও পড়ুনঃ যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৩৭ বন্দিকে মুক্তি দিচ্ছে সরকার

