ফিল্মি স্টাইলে লুট হচ্ছে রামকৃষ্ণদির মাটি গ্রামবাসীকে রক্ষায় এমপি আবদুল্লাহর আশ্বাস

অপরাধ

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখালুটপাটন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে ভারতীয় ছায়াছবি কেজিএফ স্টাইলে কৃষি জমির মাটি । ভুক্তভোগীদের রক্ষায় মুন্সীগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আবদুল্লাহর আশ্বাস। বিগত দুই বছরে অন্তত কয়েক শত কোটি টাকার মাটি চুরি লুটপাট করে বিক্রির কয়েকটি চক্র গড়ে উঠে। এদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন অফিসে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে সর্বশেষ স্থানীয় সংসদ সদস্যের দ্বারস্থ হলে সাংসদ শেখ আবদুল্লাহ অভিযুক্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন এবং ভুক্তভোগীদের আইনিসহায়তা সহ সকল প্রকার সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সিরাজদিখান থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ মাটি কাটা ও বিক্রয় চক্রের ৪ জন আসামীকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলমের নির্দেশক্রমে ও অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হান্নানের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় গত ২রা মার্চ সোমবার সকালে সিরাজদিখান থানা পুলিশ কর্তৃক অবৈধ মাটি কাটা ও বিক্রয়ের আসামী ১। সুমন সরকার(৪৫), পিতা-মালেক সরকার, ২। সুপন সরকার (৩৫), পিতা- মৃত: মালেক সরকার, ৩। মনা(৪৮), পিতা- মৃত: আমির খান, ৪। রাজন(২৫), গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেন।


ভুক্তভোগী সিমা বেগম জানান, সুমন ও সুপন তার সম্পর্কে চাচাতো ভাই তাদের একটি পৈতৃক সম্পত্তির চাষ করা জমির ৭১ শতাংশ জমির নামজারি ভুলে মালেক সরকারদের নামে রেকর্ড হয়ে যায়। পরবর্তীতে আদালতে সীমা বেগম মামলা করলে, সীমা বেগম রায়ের মাধ্যমে জমির মালিকানা ফিরে পায়। রায়ের বিরুদ্ধে সুমনরা হাইকোর্টে আপিল করলে সেখানেও মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। সীমা বেগম বলেন, ওরা হাইকোর্টেও হেরে যাবে বুঝতে পেরে চক্রান্ত করে জমির মাটি রাতের আধারে বিক্রি করে দেয়। আমি ওদের মাটি কাটতে নিষেধ করলে আমার ও আমার ছেলে এমিলির উপরে হামলা করে। এ বিষয় সিরাজদিখান থানায় একটি অভিযোগ করেছি। আমাদের নতুন এমপি সাহেব(শেখ আবদুল্লাহ) এর কাছে নির্বাচনের আগে বিচার দিলে সে আমাকে প্রতিশ্রুতি দেয় ওরা মাটি কাটতে পারবে না। সে তার লোকজন দিয়ে খবর পাঠানোর পরেও ওরা কাউকে মানে নাই। মাটি গুলো কেটে পুকুর বানায় ফালাইছে। ৮০লাখ টাকার মাটি চুরি করে বিক্রি করে ফেলছে। ওদের বিরুদ্ধে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তবে এবার স্থানীয় সাংসদের আশ্বাসে ভুক্তভোগীরা আশার আলো দেখছেন মুখ খুলছেন মাটি কাটা চক্রের বিরুদ্ধে। জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সিরাজদিখান এলাকার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য শেখ আবদুল্লাহ। এরপর থেকে উপজেলায় যৌথবাহিনীর, থানা পুলিশ ও এসিল্যান্ড অফিস থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা অব্যাহত আছে। এ ব্যাপারে শেখ আবদুল্লাহ বলেন, অপরাধী যে দলের ই হোক তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। মাদক, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুদের কোনো ছাড় নাই। আমি গ্রামবাসিকে বলে এসেছি তারা যেন রাতে যখন মাটি কাটতে আসবে তখন মাইকে মাইকিং করে সবাই একত্রে প্রতিহত করেন এবং আমাকে টেলিফোন করেন পুলিশ প্রশাসন সাথে সাথে ব্যবস্থা নিবে। আমার সংসদীয় এলাকা শ্রীনগর ও সিরাজিদখানে কোনো সন্ত্রাসী চলবে না।