ছিনতাইকারীদের পুলিশে সোপর্দ করতে বলায় শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত

অপরাধ কেরানীগঞ্জ

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে জনতার হাতে আটক দুই ছিনতাইকারীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে বলায় রাব্বি আহম্মেদ (১৯) নামের এক শিক্ষার্থীকে বিএনপির সমর্থকদের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতের পরও বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

আহত রাব্বি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ শাখার সদস্য ও জিনজিরা পীএম পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

গত বুধবার রাতে রাব্বিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে আগানগর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা আরশাদ রহমান সপুর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা।

আহতের বড় ভাই ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেরানীগঞ্জ উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদ নুর সাব্বির বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যায় আগানগর ইমামবাড়ি কবরস্থান এলাকায় ছিনতাইকালে দুজনকে আটক করে এলাকাবাসী।

এ খবর শুনে আগানগর ইমামবাড়ি সড়ক এলাকার সন্ত্রাসী ও স্থানীয় বিএনপির কর্মী শিহাব, সোহাগ, নাফিজ, রাব্বী  নেতৃত্বে তাঁদের ২০ থেকে ২৫ জন সহযোগী এসে আটক দুই ছিনতাইকারীদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

এসময় আমার ছোট ভাই রাব্বি তাঁদের বাঁধা দিয়ে ছিনতাইকারীদের পুলিশে সোপর্দ করতে বলে। এ কথা শুনে তারা আমার ভাইয়ের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে ভাইকে তারা টেনে হিচড়ে ইমামবাড়ি কবরস্থানের পাশে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে।

এসময় ভাই চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলে তার পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে শিহাব। এরপরও তারা ক্ষান্ত হয়নি। ছুরিকাঘাত পরও আবারও তারা ভাইকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে ভাইয়ের ক্ষতস্থানের অভ্যন্তরে বাতাস ঢুকে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তৎক্ষণাৎ আমরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি।

পরবর্তীতে আমরা শিহাবের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে ভাইকে ছুরিকাঘাতের বিষয়ে জানতে চাই। তখন শিহাব বলেন, এখন কিছু বলতে পারবো না, তুমি আরশাদ হোসেন ওরফে সপু চাচার (আগানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি) বাসার সামনে আসো আমি সেখানে রয়েছি। বিষয়টি আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেরানীগঞ্জ উপজেলার আহ্বায়ক আলআমিন মিনহাজসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীদের জানাই।

এসময় রাত ১২টার দিক তাদের সঙ্গে আমরা সেখানে যাই। যাওয়ার পর সেখানে শিহাবের খোঁজ না পেয়ে অবস্থান নিই। একপর্যায়ে সেখানে বিএনপি নেতা আরশাদ হোসেন এসে আমাদের উপর চড়াও হয়। এসময় তার সাথে আমাদের বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি আমাদের উপর তেড়ে আসলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

পরে আমরা সেখানে অবস্থান নিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করি। তিনি আরও বলেন, আমার ভাই এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেরানীগঞ্জ উপজেলার আহ্বায়ক আল আমিন মিনহাজ সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের সহযোদ্ধা রাব্বিকে যেভাবে সন্ত্রাসী শিহাব ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে ছুরিকাঘাত করেছে, তা শুধু ন্যক্কারজনক নয়, এটি দেশের আইনশৃঙ্খলার ওপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ।

জনতার হাতে আটক ছিনতাইকারীদের পুলিশে সোপর্দ করার কথা বলায় যদি একজন শিক্ষার্থীকে এভাবে রক্তাক্ত করা হয়, তাহলে বোঝা যায় কেরানীগঞ্জে অপরাধীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে! এই হামলার পেছনে যারা রয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমরা রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। তিনি আরও বলেন, ছাত্রসামজ কোন সন্ত্রাসীকে ভয় পায় না। আমরা রক্ত দিয়ে হলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করবো ও করে যাবো।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. শিহাব মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আগানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আরশাদ হোসেন সপু বলেন, একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আমার বাসার সামনে অবস্থান নেয়। এসময় আমি সেখানে গেলে ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে তাঁদের সাথে বাকবিতন্ডতা হয়।

এ ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একটি মহল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীর উপর হামলার ঘটনা দু:খজনক। অভিযুক্ত শিহাব আমার রাজনৈতিক সমর্থক নন। সে যদি দোষী হয় তাহলে তাকে সহ অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরোও পড়ুনঃ ঝিলমিল থেকে দুই ডাকাত গ্রেফতার