আজ পবিত্র সফর মাসের শেষ বুধবার। আখেরী চাহার সোম্বা প্রিয় নবীর অসুস্থতা থেকে সুস্থতা হওয়ার দিন। আখেরী শব্দের অর্থ শেষ, চাহ ফার্সি ‘চাহর’ শব্দের অর্থ হলো- সফর মাস এবং ফার্সি ‘শোম্বা’ শব্দের অর্থ হলো- বুধবার। সুতারং ‘আখেরি চাহর সোম্বা’র অর্থ সফর মাসের শেষ বুধবার। ইসলামী বিশ্বকোষে উল্লেখ রয়েছে, আখেরী চাহার সোম্বা হল সফর মাসের শেষ বুধবার।
আখেরী চাহার সোম্বা দিনটি নবী প্রেমিকদের জন্য খুশি ও আনন্দের দিন। কেননা এই দিনে রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থতা থেকে কিছুটা সুস্থতা অনুভব করেছিলেন। রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত বেশী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন যে নামাজের ইমামতি পর্যন্ত করতে পারেননি। ইসলামী চিন্তাবিদগন বলেন, রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুটা সুস্থতা লাভ করায় সফর মাসের শেষ বুধবারে গোসল করেছিলেন।
সহিহ বুখারী শরীফের বর্ণনায় একটি হাদিস উল্লেখ রয়েছে। হাদিসটি হল, হজরত হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেছেন, রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত আব্বাস (রা.) ও অপর একজন সাহাবির ওপর ভর করে একদিন ঘর থেকে বের হলেন। নবীজি যখন আমার ঘরে প্রবেশ করেছিলেন, তখন তার অসুস্থতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। তখন তিনি বললেন, তোমরা আমার ওপর বাঁধন খোলা হয়নি, এমন সাত মশক পানি ঢাল, যেন আমি সুস্থ হয়ে লোকদের নির্দেশনা দিতে পারি। এরপর আমরা তাকে হজরত হাফসা (রা.) এর একটি বড় গামলায় বসালাম। তারপর আমরা উক্ত মশক হতে তার ওপর ততক্ষণ পর্যন্ত পানি ঢালতে লাগলাম যতক্ষণ না তিনি তার হাত দ্বারা আমাদের ইশারা করে জানালেন যে, তোমরা তোমাদের কাজ সম্পন্ন করেছ। এরপর তিনি মসজিদে গিয়ে সাহাবিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করেন এবং তাদের খুতবা প্রদান করেন। “
রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়ার খবর সাহাবীদের মধ্যে পৌছিয়ে গেলে তারা খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়েন। খুশিতে জমিনে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন। বিভিন্ন সিরাত গ্রন্থের মাধ্যমে জানা যায়, সাহাবীরা একটি নজর দেখার জন্য রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে ছুটি আসেন। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপনসহ শুকরিয়া নামাজ আদায় করেন। উট, দুম্বা, দাস মুক্তিসহ সাধ্যনুযায়ী দান সদকা করেন। রাসুলুল্লাহর প্রিয় সাহাবী হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) ৫ হাজার দিরহাম,হজরত উমর (রা)৭ হাজার দিরহাম, হজরত ওসমান ১০ হাজার দিরহাম, হজরত আলী (রা) ৩ হাজার দিরহাম এবং আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা) ১০০ উট দান করেন।
আজ এই দিন নবী প্রেমিকদের দিন। আজ তারা আখেরী চাহার শোম্বা উপলক্ষে মসজিদ, মাদরাসা ও দরবারে বিভিন্ন ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে দিবসটি পালন করবে। আমাদেরও উচিত যথাযথ মর্যাদায় এই দিবসটি পালন করা। এই দিনে দান-সদকা, অন্যকে খাওয়ানো, অতিরিক্ত নফল নামাজ, তাওবা, দরুদ পাঠ ও জিকির ও মিলাদ মাহফিলের ব্যবস্থা করে দোয়া-মোনাজাতে দশ ও দেশের জন্য দোয়া করলে দোষনীয় হবে বলে মনে করিনা। হ্যা, অন্যের ক্ষতি কিংবা ধর্মীয় রীতিনীতির বাহিরে এমন কিছু করা ঠিক হবেনা।
আসুন,আখেরী চাহার সোম্বার এই দিনে নিয়ত করি এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা করবোনা, অন্যের ক্ষতি করা বা পাপ হউক এমন যেকোন কর্ম থেকে নিজেকে বাচিয়ে রাখার চেষ্টা করব। অন্তত পক্ষে দিনে একটি ভালো কাজ করার চেষ্টা করব। বিদায়াত মুক্ত সমাজ ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন গড়ব।
আখেরী চাহার সোম্বায় সাহাবিগন যেভাবে নবীজির জন্য ভালোবাসা দেখিয়েছে আমাদের উচিত নিজেকে নবীজির জন্য সপে দেওয়া। সর্বদা নবীজিকে ভালোবাসা। ঈমানদারতো ঐ ব্যক্তি যে ধন-সম্পদ, পরিবার-পরিজনের এমনকি নিজের জীবনের চেয়ে রাসুলুল্লাহকে ভালোবাসে। হজরত আনাস (রাঃ) বলেন,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার বাবা-মা, সন্তান-সন্ততি ও সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় না হব।’ বুখারি।

