ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মো. আবু বকর সিদ্দিক হিমেল (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার মামলা নং-০২, তারিখ ০৩/১০/২০২৪, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮-এর ৩/৪ ধারাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। ওই মামলায় হিমেলকে ১২২ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে বাদী ও তার বন্ধু মো. আরিফ হোসেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাসায় ফিরছিলেন। পথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন যাত্রাবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন সংযোগ সড়ক হয়ে কদমতলীগামী রাস্তায় পৌঁছালে তারা দেখতে পান, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরাসহ আরও কয়েকজন রাস্তা অবরোধ করে মিছিল করছেন।
এ সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছিলেন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়। বাদী ও তার বন্ধুকে পথরোধ করে মারধর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, শাহিন আহমেদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার দিন রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের বিস্ফোরিত অংশসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত ও তথ্যের ভিত্তিতে হিমেলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পুলিশের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আবু বকর সিদ্দিক হিমেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আসামিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

