রিপোর্টঃ আল ইমরান রাফি
ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় ১২ দিনের ব্যাবধানে পৃথক সাতটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্য পুলিশ ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করেছে ও একজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এঘটনায় ইতিমধ্যে পুলিশ এক বিশেষ অভিযানের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলার দুইটি থানার মধ্যে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খোলামোড়া এলাকায় রুহুল আমিন (৪০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের মধ্যে দিয়ে ঘটনার শুরু। এরপর (২৬ জুলাই) সকালে খোলামোড়া মডেল টাউনের রসূলবাগ টাইলস মসজিদ এলাকায় মমতাজ (৩০) নামে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, (২৮ জুলাই) সকালে কালিন্দি ইউনিয়নের গ্রীন সিটি সংলগ্ন বালুরমাঠ এলাকায় তানজিলা (১৭) নামে কিশোরীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, (৩০ জুলাই) সকালে হযরতপুর ইউনিয়নের ভাটারাকান্দি এলাকায় নিজ বাড়ির পাশ থেকে লিয়াকত আলী (৬০) নামে এক অটো চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় (৩১ জুলাই) সকালে ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের ভিতরে পরিত্যক্ত প্লটের জঙ্গল থেকে হাসিনা বেগম (৬৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার, একই দিন দুপুর ১২টার দিকে আগানগর পাওয়ার হাউজের নিকট রুবেল এর চায়ের দোকানের সামনে ধুমপান করাকে কেন্দ্র করে হাসান (১৭) নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। সবশেষ গত (১ই আগষ্ট) বিকাল ৪টার দিকে দোলেশ্বর আদ-দীন হাসপাতালে পেছনে একটি পরিত্যক্ত ইট ভাটার পেছনের জঙ্গল থেকে চাঁন মিয়া গাজী ওরফে চান্দু (৬৫) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
একের পর এক হত্যাকান্ড-মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয় বাসিন্দদের মধ্যে।
এঘটনায় কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিলুল হক বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, ঘটনাগুলো সামাজিক ও পারিবারিক অবক্ষয়ের কারনে ঘটছে। প্রত্যকটি ঘটনা ব্যাক্তিগত আক্রশের কারনে ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, রুহুল আমিনের ঝুলন্ত মরদেহের বিষয়টি তিনি ঋণগ্রস্ত থাকায় আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, অপমৃত্যু মামলাটি তদন্ত চলমান রয়েছে, মমতাজ হত্যাকান্ডের ঘটনায় মিন্টু নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তানজিলা হত্যাকাণ্ডে তার প্রেমিক রানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অটোচালক লিয়াকত আলী হত্যাকাণ্ডে তার ছেলে ফারুককে গ্রেফতার করা হয়েছে, হাসিনা বেগম হত্যাকাণ্ডে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন, হাসান হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের অভিযান চলমান রয়েছে ও নির্মাণ শ্রমিক চাঁন মিয়া গাজী হত্যাকাণ্ডে সন্দেহমূলক একজনকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এবিষয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, প্রত্যেকটি ঘটনায় পুলিশ আইনগত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে ১৫ দিনের একটি বিশেষ অভিযানের কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশের মাধ্যমে সাথে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে নিয়ে জনসচেতনতামূলক আলোচনা করা হবে। যেই ঘটনাগুলো ঘটছে, আলোচনার মাধ্যমে সকলকে সচেতন করা হবে।

