জিনজিরা গার্লস স্কুল এডহক কমিটির সভাপতি নিয়ে নাখোশ স্থানীয়রা

Uncategorized

ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ইউনিয়নে ঐহিত্যবাহী জিনজিরা গার্লস হাই স্কুলে সম্প্রতি ৬ মাসের জন্য এডহক কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। কমিটিতে  মো: সামি উল্লাহ কে সভাপতি , উত্তম বেপারীকে সাধারন শিক্ষক সদস্য এবং মো: শফিকুর রহমান বাবলুকে অভিভাবক সদস্য ঘোষনা করা হয়েছে।  সভাপতি হিসেবে মো: সামি উল্লাহর নাম ঘোষনা করায় জিনজিরার স্থানীয় কিছু জনসাধারনের মনে ক্ষোভ ও হতাশার দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, গত ২৫ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কেরানীগঞ্জের জিনজিরা গার্লস স্কুলের এডহক কমিটি ঘোষনা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে আগামী ৬ মাসের জন্য মো: সামিউল্লাহ কে এডহক কমিটির সভাপতি ঘোষনা করা হয়।

কমিটিতে সামিউল্লাহকে সভাপতি হিসেবে ঘোষনা করার পরে স্থানীয়  জিনজিরার কিছু জনসাধারন এবং বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার মধ্যে হতাশা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।  তাদের ভাষ্য জিনজিরা ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুলের সভাপতি হিসেবে এই প্রথম জিনজিরার বাইরের কাউকে সভাপতি ঘোষনা করা হলো।  যেহুতু প্রতিষ্ঠানটি জিনজিরার তাই স্থানীয় কাউকে সভাপতি হিসেবে দেওয়ার জোড় দাবী তাদের।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিএনপির একজন রাজনৈতিক নেতা যানান, জিনজিরা ইউনিয়নেই শিক্ষিত অনেক নেতাকর্মী রয়েছে।  এই প্রথম জিনজিরার একটি সনামধন্য প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে তেঘরিয়ার কেউ।  এই বিষয়টি আমাদের জন্য অপমানের।  এই সিদ্ধান্ত জিনজিরাবাসী মেনে নিবে না।

মো: মুকতাদির নামে স্থানীয় একজন জানান, প্রতিষ্ঠানটির বিগত সময়ে অনেক অনিয়ম দুর্নীতির রেকর্ড রয়েছে। এবারের কমিটিতে শুনলাম অন্য ইউনিয়নের এক ব্যাক্তিকে সভাপতি দেওয়া হয়েছে। জিনজিরার আলাদা ঐতিহ্য আছে তাই আমরা চাই এলাকার কেও ই সভাপতি হোক।

মো: সামাদ নামে অপর একজন জানান, সভাপতি কে হলো সেটা দেখার বিষয়না। মূল বিষয় তার সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা আছে কি না, আর সে স্কুলের উন্নয়নে কাজ করবে কি না। তবে এলাকার কেও সভাপতি হলে ভালো হতো।

স্কুলের রেকর্ড অনুসন্ধানে উঠে আসে, বিগত সময়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন আবু রায়হান।  অনিয়ম দুর্নীতির কারনে তাকে পরপর তিনবার বরখাস্ত করা হয়।  শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।  তার অবহেলার কারনে বিগত কয়েক বছরে স্কুলের ফলাফল ও শিক্ষা কার্যক্রমেও তার প্রভাব পরে।  যার দরুন স্কুল কমিটি ধেলে সাজানো সহ নানা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়।

কমিটির সভাপতির বিষয়ে কথা হলে বর্তমান নির্বাচিত সভাপতি মো: সামিউল্লাহ জানান, জিনজিরার স্কুলটির আলাদা ঐহিত্য রয়েছে। আম যেহুতু কেরানীগঞ্জের সন্তান, সেখানে আমাকে একটি মহল আলাদা ভাবে কেন দেখছে তা বুঝতে পারছি না। স্কুলে পরিচালনা করা সহ স্কুলটির কিছু সমস্যা রয়েছে। সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।  আগামী ৬ মাসের ভেতরে সকল সমস্যা সমাধান করে আমি স্কুলটিকে ঢেলে সাজানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

 

কমিটির বিষয়ে বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা মোসা: তাহমিনা জানান, এড হক কমিটি নিয়ে আমাদের ভেতর কোন সমস্যা নাই। মূলত সাবেক বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক আবু রায়হান পুনরায় স্কুলটিতে আসার জন্য নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে।  তিনি স্কুলটিতে আবার প্রভাব বিস্তার করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছে, নানান ভাবে স্কুলটিতে ঝামেলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তবে স্কুলের কোমলমতি বাচ্চা, অভিভাবকসহ আমরা স্কুলের শিক্ষকরা দুর্নীতিবাজ ঐ শিক্ষককে আর স্কুলে জায়গা দিবো না।

উল্লেখ্য এডহক কমিটির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে একটি মানব বন্ধনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।