রিপোর্টঃ আল ইমরান রাফি
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে ঢাকা-৩ আসনে সর্বোচ্চ পাশের হার অর্জন করেছে নূরুল আলম স্কুল। প্রতিষ্ঠানটির পাশের হার ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অন্যদিকে সর্বনিম্ন পাশের হার পারজোয়ার ব্রাহ্মণগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে, যেখানে পাশের হার ৪৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। কেরানীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, নূরুল আলম স্কুলে মোট ৯৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯৬ জন উত্তীর্ণ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
অন্যদিকে পারজোয়ার ব্রাহ্মণগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট ১২৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৫৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাশের হার হয়েছে ৪৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা-৩ আসনের আওতাধীন ১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে নূরুল আলম স্কুলে ৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৯৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাশের হার ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। কসামো পলিটন ল্যাবরেটরি স্কুলে ৯৬ জন অংশ নিয়ে ৯১ জন উত্তীর্ণ হয়ে পাশের হার ৯২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আয়মনা খাতুন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ৭৩ জন অংশ নিয়ে ৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ৮৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিনজিরা পি.এম. পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩৬৩ জন অংশ নিয়ে ২৯৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ৮২ শতাংশ। জিনজিরা পি.এম. পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪১০ জন অংশ নিয়ে ৩২৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ৭৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
এছাড়া শুভাঢ্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৩২ জন অংশ নিয়ে ১৭৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ৭৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৪৮ জন অংশ নিয়ে ১১২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ৭৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ। চুনকুটিয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে ৪৩২ জন অংশ নিয়ে ৩২৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ৭৫ শতাংশ। হাসনাবাদ কামরুন শাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৭৯ জন অংশ নিয়ে ১৩০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ৭২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। আগানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬০ জন অংশ নিয়ে ৪১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ৬৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
অন্যদিকে নূর মোহাম্মদ নূর মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩০ জন অংশ নিয়ে ৮৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ৬৬ দশমিক ৯২ শতাংশ। ওরিয়েন্ট ট্রেনিং মিশন স্কুলে ২৪৮ জন অংশ নিয়ে ১৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ৬৬ দশমিক ১১ শতাংশ। তেঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৬৬ জন অংশ নিয়ে ১০৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ। অধ্যাপক হামিদুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫৬ জন অংশ নিয়ে ৩৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ৫৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। জাজিরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮১ জন অংশ নিয়ে ৪৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ৫৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। বায়ের হাই স্কুলে ১০১ জন অংশ নিয়ে ৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাশের হার ৪৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
সবশেষে, ঢাকা-৩ আসনের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন পাশের হার পারজোয়ার ব্রাহ্মণগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৫৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশের হার ৪৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।
সামগ্রিকভাবে ১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ হাজার ৯৯১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২ হাজার ২৪২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা-৩ আসনের আওতাধীন বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফলেও পাশের হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে।
ভালো ফলাফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে তুলনামূলক কম পাশের হার করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফলাফল পর্যালোচনা ও শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

