কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যায় মাদকাসক্ত স্বামীর হাতে খুন স্ত্রী

কেরানীগঞ্জ শুভাড্যা সারাদেশ

স্বামীর হাতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত গৃহবধূর নাম মিম খাতুন (২০)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মো. দিপু বিশ্বাসকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার সকালে মিম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতের মামা আব্দুস সালাম জানান, তিন বছর আগে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাসের ছেলে দিপু বিশ্বাসের সঙ্গে মিম খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে মানহা নামে ১৩ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তারা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া এলাকায় রেজাউল করিমের বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর প্রথম দিকে সংসার ভালো চললেও কেরানীগঞ্জে আসার পর দিপু বিশ্বাস মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। প্রায়ই গভীর রাতে মাদক সেবন করে বাসায় ফিরতেন। এ নিয়ে স্ত্রী আপত্তি করলে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।

তার দাবি, রোববার গভীর রাতে বাসায় ফিরে দিপু ও মিমের মধ্যে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে দিপু তার স্ত্রীকে মারধর করেন। এতে মিম অচেতন হয়ে পড়েন এবং পরে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে দিপু মরদেহ ওড়না দিয়ে জানালার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আব্দুস সালাম আরও জানান, পরে দিপু নিজেই মিমকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর আবার মরদেহ বাসায় নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দিপু বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই মিম খাতুনকে মারধর করতেন। হত্যার পর তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

বাড়ির মালিক রেজাউল করিম বলেন, “দিপু প্রায়ই গভীর রাতে বাসায় ফিরতেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছি তিনি মাদক সেবন করতেন। আমার ধারণা, মাদকাসক্ত অবস্থায় স্ত্রীকে হত্যার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছেন।”

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর মরদেহ জানালার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “মিম খাতুনের মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”