বিজয় দিবস আমাদের জাতির গৌরব ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অর্জিত স্বাধীনতা শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, এটি হাজারো শহীদের স্বপ্ন, ত্যাগ আর সংগ্রামের ফল। স্বাধীনতার সূর্য উঠেছিল তরুণদের সাহসিকতা, মুক্তিযোদ্ধাদের দেশপ্রেম এবং সাধারণ মানুষের অবদানকে ভিত্তি করে। তাই এই দিবস উদযাপনের পাশাপাশি আমাদের উচিত নতুন প্রজন্মের মাঝে দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলা এবং দেশ নির্মাণের পথে তাদের ভূমিকা নিশ্চিত করা।
যুব সমাজ একটি দেশের সবচেয়ে কর্মক্ষম ও সৃজনশীল অংশ, যারা নতুন ধারণা, আধুনিক চিন্তা আর পরিবর্তনের শক্তি বহন করে। বিজয় দিবসে আমরা যখন শহীদদের স্মরণ করি, তখন নিজেদের দায়িত্বের কথাও মনে করতে হয়। কারণ স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখা এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও শাণিত হয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। আজকের তরুণদের অঙ্গীকার হতে হবে দেশের সার্বিক উন্নয়ন, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, এবং মানবিক আদর্শে নিজেদের গড়ে তোলা।
প্রথমত, শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ এবং জ্ঞানসমৃদ্ধ করে তুলতে হবে। বিশ্বায়নের এই যুগে যোগ্যতার বিকল্প নেই। গবেষণা, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, কৃষি, শিল্পসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে দক্ষ যুবসমাজ দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চা আজকের তরুণদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। দুর্নীতি, ঘুষ, অনিয়ম এবং অবক্ষয় রোধে নৈতিকতার বিকাশ অপরিহার্য।
তৃতীয়ত, যুব সমাজকে সামাজিক উন্নয়ন ও স্বেচ্ছাসেবী কাজে অংশ নিতে হবে। সমাজে অসহায়, দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত দেশপ্রেম। দেশ উন্নত হয় শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে নয়, মানবিকতার ভিত্তিও যখন শক্তিশালী হয়। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে তরুণদের সচেতন অবস্থান প্রয়োজন, কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা তাদের হাতেই।
রাজনীতিতে ইতিবাচক অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ রাজনীতি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়, আর অসুস্থ রাজনীতি জাতিকে পিছিয়ে দেয়। তাই তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে ভ্রান্ত তথ্য, বিদ্বেষ ছড়ানো এবং নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সবশেষে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করা জরুরি। আমাদের স্বাধীনতা শুধু ইতিহাসের গর্ব নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা। শহীদদের আদর্শ ছিল দেশপ্রেম, সততা, সাহস এবং ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা। যুব সমাজকে সেই পথেই হাঁটতে হবে।
বিজয় দিবসের শপথ হোক, আমরা সবাই মিলে একটি সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলব। তরুণরা যদি সঠিক পথে এগোয়, তবে দেশটি একদিন বিশ্বের উন্নত জাতিগুলোর সারিতে পৌঁছাবে। স্বাধীনতার অর্জন তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন প্রতিটি নাগরিক তার দায়িত্ব পালন করবে এবং যুব সমাজ হবে জাতির অগ্রযাত্রার প্রধান শক্তি।
এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিনঃ
লেখক: এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন
ইউএমসি ০৭
সেশন: ২০২০-২১
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ
আরোও পড়ুনঃ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ৫ লাখ ৫৪ হাজার ছাড়াল

