ঢাকার কেরানীগঞ্জে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কেরানীগঞ্জ মডেল ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার জান্নাতুল মাওয়াসহ একাধিক ব্যাক্তির স্বাক্ষর জাল করে মিস কেইসের আবেদন করার অভিযোগে সুমন ও কামরুল হাসান শাহিন নামে দুইজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় কামরুল হাসান শাহিনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও সুমনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল মাওয়া।
মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পাওয়া কামরুল হাসান শাহীন কেরানীগঞ্জ মডেল থানা বিএনপির সভাপতি শামীম হাসানের ভাই এবং গ্রেপ্তার হওয়া সুমন জিনজিরায় আওয়ামীলীগ নেতা গ্যাস মামুনের ভাই বলে জানা গেছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের মান্দাইল মৌজার ৫৮ শতাংশ জমি সংক্রান্ত বিষয়ে একটি মিস কেসের আবেদন করা হয়, সোমবার ওই মিস কেসের শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানির সময় এসিল্যান্ড আবেদনপত্রের কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি শনাক্ত করেন তারা। পরে সুমনকে ও তার সহযোগী শাহিনকে হাতে নাতে আটক করা হয়। এ ঘটনায়, আবেদনপত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল মাওয়াসহ একাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ভূমি অফিসে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


বিষয়টি নিশ্চিত করে কেরানীগঞ্জ মডেল ভূমি অফিসের এসিল্যান্ড জান্নাতুল মাওয়া জানান, সোমবার এবং বুধবার আমাদের সাপ্তাহিক মিসকেস কোর্ট পরিচালনা করি। আজকে আমরা মিস কেইসের শুনানী করছিলাম এক পর্যায়ে একটা নতুন ফাইলিং আজকেই প্রথম ডেট ছিলো, সেটা হেয়ারিং এর যাচাই বাছাই এর সময় দেখি আমার সাক্ষার নকল করা এছাড়া রেজিস্টারে যে নাম্বার দেওয়া হয়েছে সেটাও নকল। কেইসের মূল যে বাদী সেও এখানে অনুপস্থিত ছিলো। প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদে সুমন বিষয়টার সত্যতা স্বীকার করেছেন । সুমনের সাথে আরেকজন ছিলেন শাহীন যিনি এডভোকেটর পরিচয় দিয়েছে। তবে তিনি মূলত এডভোকেট না। পরে শাহীন এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয় বলে একটা মুচলেকা প্রদান করে চলে গিয়েছেন। এবং সুমনকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের নিকট সেপর্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে ভুয়া এডভোকেটের পরিচয় ব্যবহার কারী কামরুল হাসান শাহীনের ভাই কেরানীগঞ্জ মডেল থানা বিএনপি নেতা শামীম হাসানের মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি। মুঠোফোনে বার্তা প্রেরন করা হলেও তিনি জবাব দেন নি।#


