সরকার নির্বাচনের সময় ফ্যামেলী কার্ডের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, নির্বাচনে পাশ করার পরে দ্রুত সময়েই তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় ধাপে দেশের ১৯ টি উপজেলার ১৯ টি ওয়ার্ডে ফ্যামেলী কার্ড বিতরনের উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলাও। কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নে ৫০৯ টি পরিবার এবং রোহিতপুর ইউনিয়ের ৭৭০ টি পরিবারের মধ্য প্রদান করা হচ্ছে সরকারের ফ্যামেলি কার্ড। ইতিমধ্যই বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ শেষ করেছে চলছে শেষ পর্যায়ের যাচাই বাছাই। সব ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই তুলে দেয়া হবে ফ্যামেলী কার্ডের প্রথম মাসের ২৫০০ টাকা।

সরেজমিন কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ও রোহিতপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তেঘরিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড এবং রোহিতপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। তথ্য সংগ্রহকারীরা বলছেন অপেক্ষাকৃত দরিদ্র প্রবন এলাকা ও নিন্ম আয়ের মানুষ বেশি হওয়ায় তেঘরিয়া ও রোহিতপুরের ২৭০০ এর অধিক পরিবারের ওপর জরিপ চালানো হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক ভাবে তেঘরিয়ায় ৮ নং ওয়ার্ডের ৫০৯ টি পরিবারকে এবং রোহিতপুরে ৫ নং ওয়ার্ডের ৭৭০টি পরিবারকে প্রাথমিক ভাবে ফ্যামেলি কার্ডের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এই পরিবারগুলোর মাঝে কেও তথ্য গোপন করেছে কি না। অথবা কোন সচ্ছল পরিবার লিপিবদ্ধ হয়েছে কি না , তা যাচাই বাঝাই করতে এখন চলছে শেষ পর্যায়ের চুড়ান্ত ভেরিফিকেশন।
উপজেলা সমাজ সেবা সুত্রে জানা যায়, ফ্যামেলী কার্ডের নীতিমালা অনুযায়ী পরিবারের প্রধান নারীদের কাছ থেকে নাম,ঠিকানা,ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি ও আর্থিক অবস্থার বিবরন নেয়া হচ্ছে। এছাড়া তারা সরকারের অন্যান্য সহযোগীতা পান কি না এ বিষয়সহ তাদের দিতে হচ্ছে মোট ৪৭ টি প্রশ্নের উত্তর। সরকার নির্ধারিত প্রশ্নের ভিত্তিতে ১ হাজার নাম্বারের মধ্যে যাদের নাম্বার ৭৭৭ থেকে ৮১৪ মধ্যে থাকবে তারা অতি দরিদ্র এবং দরিদ্র বলে চিহ্নিত হবে। কেবল তারাই পাবে ফ্যামেলি কার্ডের সুযোগ সুবিধা। তথ্যগুলো নেয়ার পরে প্রাপ্ত তথ্য সঠিক কি না, অথবা কেও কোন তথ্য লুকিয়েছে কি না,সেগুলো পুনরায় রি-ভেরিফিকেশন করছে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার।
এদিকে নির্বাচনের আগে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত ফ্যামেলী কার্ড দেওয়ায় খুশি গ্রামবাসী।
তেঘরিয়ার ঋষি পাড়া গ্রামের লতা রানী বলেন, আমি বিধবা ছোট দুইটা ছেলে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করছি। অণ্যের বাসায় ঝি এর কাজ করে যা আয় হয় , তা দিয়ে কোন মতো খেতে পারি। ঘরের চাল ফুটো হয়ে জল পরছে। কিন্তু টাকার অভাবে তা মেরামত করতে পারছি না। ফ্যামেলি কার্ডে এই টাকাটা পেলে আমার জন্য একটু আসান হবে । সরকারকে ধন্যবাদ জানাই ।
উমা রানী জানান, আমার স্বামী প্রতিবন্ধী। আমি বাসায় বাসায় কাজ করি, জিনিস পত্রের যা দাম বাড়ছে ঠিক মতো খেতেই আমাদের কষ্ট হয়ে যায়। সরকার ঘোষনা করেছিলো ফ্যামেলি কার্ড দিবে, কিছু দিন আগে আমার নাম লিখে নিয়ে গেছে, বিকাশ খুলতে বলেছে আর ভোটার কার্ড নিলো। এতো তাড়াতাড়ি টাকা পাবো তা ভাবি নি। এখন আমার বাজার করতে একটু সুবিধা হবে।
রোহিতপুরের মাজেদা বেগম জানান, আমার স্বামী এক্সিডেন্ট করে পঙ্গু অবস্থায় ঘরে বসে আছে। প্রতি মাসে তার ঔষুধের টাকা জোগাড় করতে আমার হিমসিম খেতে হয়। এখন কার্ড পেলাম আমার ঔধুধ কিনতে সুবিধা হবে। যারা এই আয়োজন করেছে আমাকে সহায়তা করেছে, সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
কার্ড পাওয়া জোছরা নামে অপর একজন জানান, প্রথমে বিশ্বাস করি নি যে ফ্যামেলী কার্ড পেয়েছি । সরকাররা তো কত কথাই বলে, কিন্তু বাস্তবায়ন আর করে কই। এই সরকার বাস্তবায়ন করেছে, তিনি গরীবের বন্ধু। সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোহাম্মদ শিবলীজ্জামান জানান, যাদের সত্যিকার অর্থেই ফ্যামেলী কার্ড প্রয়োজন তাদের হাতে ফ্যামেলী কার্ড তুলে দিতে সতর্কতার সাথে যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে আমরা ২৭০০ বেশি পরিবারের মাঝে যাচাই বাছাই করে ১২৭৯ টি পরিবারকে সে শনাক্ত করেছি। যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাদের পরবর্তীতে সুযোগ থাকবে। সব ঠিক ঠাক থাকলে আগামী ৩- ৪ দিনের ভেতরেই কেরানীগঞ্জের ফ্যামেলী কার্ড প্রাপ্তরা ২৫০০ টাকা করে সুবিধা পাবেন।
রাজু আহমেদ
০১৮৭৭৩৮৭৭৩৮
০৯-০৬-২০২৬

